ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করেই একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায়ই মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল এবং সেই আদর্শ বাস্তবায়ন করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।
শনিবার সকালে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির পক্ষ থেকে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
ইশরাক হোসেন বলেন, “নির্বাচনের আগে আমাদের যে প্রত্যাশা ছিল, এখনো সেটিই আছে—একটি গণতান্ত্রিক, মুক্ত ও স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাজনৈতিক সংগ্রামও ছিল সেই লক্ষ্যকে কেন্দ্র করেই।”
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে নির্বাচনব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল করা হয়েছে। যারা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে দাবি করত, তারাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আঘাত করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, দেশকে লুটপাট, গুম ও হত্যার রাজনীতির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে এবং জনগণ একটি নির্বাচিত সরকার পেয়েছে। এখন মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব। তিনি বলেন, বিভিন্ন অঞ্চল ও শ্রেণি-পেশার মানুষের আলাদা প্রত্যাশা রয়েছে—সেগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে নীতিনির্ধারণ করতে হবে।
ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য তুলে ধরে ইশরাক হোসেন বলেন, ভাষা আন্দোলনের মূল চেতনা ছিল সমান নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা। দল, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান মর্যাদা ও অধিকার ভোগ করবে—এটাই ছিল সেই আন্দোলনের বার্তা। পাহাড়ি হোক বা সমতলের মানুষ—সবাইকে সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাই সরকারের অঙ্গীকার বলে জানান তিনি।
শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে বিএনপির মহানগর নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। ফুলে ফুলে ভরে ওঠা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ভাষা শহীদদের স্মরণ করে তারা বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।








