জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের নারীরা লবণাক্ততা ও অন্যান্য ঝুঁকির ফলে বহু ধরনের সংকটে পড়ছেন। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত জীবিকা পরিকল্পনা ও নির্দেশিকা তৈরি করা হয়েছে, যা নারীদের অভিযোজন সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘রেজিলিয়েন্ট ফিউচারস: জেন্ডার-সংবেদনশীল জীবিকা উপকরণ ও জলবায়ু পথরেখা’ শীর্ষক ভ্যালিডেশন কর্মশালায় এই নির্দেশিকা উপস্থাপন করা হয়। কর্মশালাটি আয়োজিত হয় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর (ডিডব্লিউএ) এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই) যৌথভাবে খুলনা ও সাতক্ষীরার পাঁচটি উপজেলায় বাস্তবায়িত প্রকল্পের অংশ হিসেবে।
প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা দিয়েছে ইউএনডিপি, আর অর্থায়ন করেছে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ) এবং বাংলাদেশ সরকার। কর্মশালায় উপকূলীয় নারীদের স্বাবলম্বী করতে প্রশিক্ষকদের জন্য বিশেষ পাঠ্যক্রম, জেন্ডার-সংবেদনশীল জীবিকা পরিকল্পনা টুলকিট এবং ২০৫০ সাল পর্যন্ত সম্ভাব্য জলবায়ু প্রভাবের পূর্বাভাস সংবলিত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) জিনাত আরা, বলেন, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর অভিযোজন ক্ষমতা বাড়ানো সরকারের অগ্রাধিকার। ইউএনডিপির সারদার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জলবায়ু অভিযোজনে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে এবং এই প্রকল্প তার উদাহরণ।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন প্রকল্পের জাতীয় পরিচালক আবদুল হাই আল মাহমুদ। সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী ও স্থানীয় অংশীজনেরা অংশগ্রহণ করে, এবং বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকায় টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।