পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটি শেষে রাজধানী ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ফিরতি যাত্রায় এখনো তেমন কোনো ভিড় বা চাপ দেখা যায়নি। রাজধানীর প্রধান বাস টার্মিনালগুলোতে যাত্রী উপস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও যানবাহন চলাচল ছিল অনেকটাই স্বস্তিদায়ক।
রোববার (৩১ মে) রাজধানীর সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী এলাকার বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ ঢাকায় ফিরছেন। তবে ঈদের আগে ঘরমুখো মানুষের যে ব্যাপক চাপ দেখা গিয়েছিল, ফিরতি যাত্রায় তার কোনো প্রতিফলন এখনো দেখা যায়নি। রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোও ছিল তুলনামূলক ফাঁকা।
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদের ছুটি শেষে সবাই একযোগে ঢাকায় ফিরছেন না। অনেকেই আরও কয়েকদিন গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করবেন। ফলে পুরো সপ্তাহজুড়েই ধাপে ধাপে রাজধানীতে মানুষের আগমন অব্যাহত থাকবে।
বরিশাল থেকে ফেরা বেসরকারি চাকরিজীবী ইমরান হোসেন বলেন, ঈদের আগে বাড়ি যাওয়ার সময় যাত্রীচাপ ও ভিড় ছিল অনেক বেশি। কিন্তু ফেরার পথে বাসে আসন সংকট বা যানজটের কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি। স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে ঢাকায় ফিরেছেন বলে জানান তিনি।
গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসা ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামও মনে করেন, এখনও অনেক মানুষ গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছেন। তাই যাত্রীচাপ কম দেখা যাচ্ছে। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।
সায়েদাবাদ এলাকায় কর্মরত বাইক রাইডার হাবিব রহমান জানান, সকাল থেকে যাত্রী আসা শুরু হলেও এখনো কোনো ধরনের অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়নি। তার ধারণা, চলতি সপ্তাহজুড়েই রাজধানীমুখী মানুষের প্রবাহ অব্যাহত থাকবে এবং আগামী সপ্তাহে ঢাকা আবার তার স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্যে ফিরে যাবে।
ফরিদপুর থেকে আসা ব্যবসায়ী নাফিজ আহমেদ বলেন, ফাঁকা সড়কের কারণে খুব অল্প সময়েই ঢাকায় পৌঁছাতে পেরেছেন। যানজট না থাকায় যাত্রা ছিল স্বস্তিদায়ক।
অন্যদিকে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় ফেরা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নাসরিন আলম জানান, সামনে পরীক্ষা থাকায় তিনি আগেভাগেই ঢাকায় ফিরেছেন। বাড়ি যাওয়ার সময় দীর্ঘ যানজটে পড়লেও ফিরতি পথে তেমন কোনো ভোগান্তি হয়নি।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সোমবার থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত পুরোপুরি চালু হওয়া এবং পর্যায়ক্রমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হলে রাজধানীতে ফিরতি যাত্রীর সংখ্যা আরও বাড়বে। তখন ঢাকার রাস্তাঘাট ও কর্মক্ষেত্রগুলো আবারও ফিরে পাবে তাদের পরিচিত ব্যস্ততা ও প্রাণচাঞ্চল্য।