পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে টানা সরকারি ছুটি শুরু হতেই অনেকটাই ফাঁকা হয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকা। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে ইতোমধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষ গ্রামের বাড়ির পথে রওনা হওয়ায় কমেছে যানবাহনের চাপ, নেই চিরচেনা যানজটও। ফলে ব্যস্ত নগরী ঢাকায় এখন মিলছে অনেকটাই স্বস্তির পরিবেশ।
সরকার ঘোষিত সাত দিনের টানা ছুটি উপলক্ষে ২৫ মে থেকেই রাজধানী ছাড়তে শুরু করেন নগরবাসী। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মিরপুর, বনানী, খিলক্ষেতসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ দিনের তুলনায় সড়কে যানবাহনের চাপ অনেক কম। যেসব সড়কে প্রতিদিন দীর্ঘ যানজট লেগে থাকে, সেসব এলাকাও ছিল প্রায় ফাঁকা।
সড়কে গণপরিবহনের সংখ্যাও কমে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাসগুলোকে দীর্ঘ সময় স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে যাত্রীর অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। অনেক বাস যাত্রী কম নিয়েই চলাচল করছে।
মিরপুর-উত্তরা রুটে চলাচলকারী Projapoti Paribahan–এর বাসের হেলপার সুমন বলেন, “সাধারণ সময়ে সকালে বাসে দাঁড়ানোর জায়গা থাকে না। কিন্তু এখন যাত্রী অনেক কম। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও বাস ভর্তি হচ্ছে না।”
একই পরিবহনের আরেক কর্মী রাসেল বলেন, “ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার পর থেকেই যাত্রী কমে গেছে। মানুষ গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়ায় এখন আগের মতো চাপ নেই।”
তবে গণপরিবহন কম থাকলেও ব্যক্তিগত গাড়ির চলাচল তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে। বিশেষ করে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
এদিকে যানবাহনের চাপ কমে যাওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদেরও কিছুটা স্বস্তিতে কাজ করতে দেখা গেছে। অধিকাংশ সিগন্যালেই যান চলাচল ছিল স্বাভাবিক এবং অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে হয়নি তাদের।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের আগের দিন ও ঈদের দিন রাজধানী আরও ফাঁকা হয়ে যেতে পারে। ছুটি শেষে আগামী ১ জুন থেকে আবারও কর্মচাঞ্চল্যে ফিরবে ব্যস্ত এই নগরী।