ইপেপার / প্রিন্ট
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানীতে তিনদিনব্যাপী ঈদ উৎসব এবং বর্ণাঢ্য ঈদের মিছিলের আয়োজন করা হচ্ছে। এই তথ্য জানিয়েছেন সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর শাহবাগ, জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে।
আসিফ মাহমুদ বলেন, প্রায় ৫০০ বছর আগে এই অঞ্চলে ঈদের মিছিল ছিল অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক উৎসবের প্রতীক, যা সুলতানি আমল থেকে মোঘল সাম্রাজ্য পর্যন্ত ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের প্রকাশ হিসেবে উদযাপিত হতো। হাতি, ঘোড়া ও বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে ঈদের মিছিল নগর জীবনের প্রাণবন্ত সামাজিক উৎসব হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে উপনিবেশিক শাসন ও জমিদারদের সাংস্কৃতিক দমন এই উৎসবের চমক কমিয়ে দিয়েছিল।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পুনরায় এই ঐতিহ্য শুরু হয়, এবং গত বছরের ঈদ মিছিল বিপুল মানুষের অংশগ্রহণে সফল হয়েছে। আসিফ মাহমুদ জানান, এই ধারাবাহিকতায় এবারও নাগরিক অংশগ্রহণে মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
ঈদের আগের দিন (চাঁদ রাত):
মেহেদী উৎসব ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা রাজধানীর রবীন্দ্র সরোবরে
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই অংশগ্রহণ করতে পারবে
অনুষ্ঠানে থাকবে ঈদের গান, কবিতা ও নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন
ঈদের দিন:
সকাল ১০টায় জাতীয় ঈদগাহ (হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ) থেকে মিছিল শুরু
ঈদের নামাজের পর শহরের বিভিন্ন পাড়া ও মহল্লা থেকে ঝটিকা মিছিল যোগদান করবে
মিছিলটি দোয়েল চত্বর হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শাহবাগ মোড়ে শেষ হবে
ঐতিহ্য অনুযায়ী থাকবে হাতি ও ঘোড়ার গাড়ি, ঐতিহাসিক চরিত্র, প্ল্যাকার্ড
বিভিন্ন ঝটিকা মিছিলের মধ্যে সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ মিছিলকে পুরস্কৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে
শিশুদের জন্য থাকবে কিডস জোন
ঈদের পরদিন:
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঘুড়ি উৎসব
ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি উৎসব ঈদের সঙ্গে উদযাপনের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াবে
উৎসব পরিচালনার জন্য একটি বাস্তবায়ন কমিটি এবং উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে
উৎসবে নাগরিক উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করা হবে
শত বছরের ঐতিহ্যপূর্ণ এই উৎসবে বৃহৎ মানুষের অংশগ্রহণ প্রত্যাশিত
আসিফ মাহমুদ বলেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে ঈদকে শুধুমাত্র ধর্মীয় ছুটি নয়, বরং নাগরিক আনন্দ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক প্রাণবন্ত উৎসবে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।