পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির দ্বিতীয় দিনে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন উত্তরবঙ্গের ঘরমুখো মানুষ। তবে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, বৃষ্টি এবং যমুনা সেতু সংযোগ সড়কে একাধিক যানবাহন বিকল হয়ে পড়ায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের প্রায় ২২ কিলোমিটার এলাকায় থেমে থেমে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ।
সোমবার রাত থেকে যমুনা সেতুর টোল প্লাজা থেকে মহাসড়কের রাবনা পর্যন্ত যানবাহনের ধীরগতি ও যানজট শুরু হয়, যা মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা।
রাত থেকেই মহাসড়কের গোড়াই, মির্জাপুর, টাঙ্গাইল বাইপাস, রাবনা বাইপাস, এলেঙ্গা এবং যমুনা সেতুর পূর্ব পাড় এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। দূরপাল্লার বাসের পাশাপাশি প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল এমনকি খোলা ট্রাকেও অনেক যাত্রীকে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে যমুনা সেতুতেও বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। পাশাপাশি চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সেতু দিয়ে মোট ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর মাধ্যমে টোল আদায় হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫৮ হাজার ২০০ টাকা। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গমুখী ৩২ হাজার ১৮৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, আর ঢাকামুখী যানবাহনের সংখ্যা ছিল ২১ হাজার ৬০টি।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানিয়েছেন, বৃষ্টি ও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের কারণে সাময়িক জটলা তৈরি হয়েছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।