পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে রাজধানীর রেলস্টেশনগুলোতে। ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার সকালে দেশের প্রধান ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে দেখা গেছে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। সকাল থেকেই বিভিন্ন গন্তব্যের ট্রেন ধরতে পরিবার-পরিজন ও লাগেজ নিয়ে স্টেশনে ভিড় করেন হাজারো মানুষ।
স্টেশনের প্রবেশপথ, টিকিটিং এলাকা, প্ল্যাটফর্ম ও অপেক্ষমাণ কক্ষজুড়ে ছিল যাত্রীদের দীর্ঘ সারি। কেউ ট্রেনের সময় জানতে শিডিউল বোর্ডের দিকে তাকিয়ে ছিলেন, আবার কেউ প্ল্যাটফর্মের সিটিং এরিয়ায় বসে অপেক্ষা করছিলেন। অনেক যাত্রী সময়মতো ট্রেন ধরতে নির্ধারিত সময়ের আগেই স্টেশনে চলে আসেন।
স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, সকাল সোয়া ১০টা পর্যন্ত ২০টি ট্রেন ঢাকা স্টেশন ছেড়ে গেছে। সারাদিনে মোট ৬৮টি ট্রেন ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে। বেশিরভাগ ট্রেন সময়মতো ছেড়ে গেলেও দুটি আন্তঃনগর ট্রেন বিলম্বে ছেড়ে যাওয়ায় কিছু যাত্রীকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
সূত্র জানায়, চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস সকাল ৮টায় ছাড়ার কথা থাকলেও সেটি প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা বিলম্বে স্টেশন ত্যাগ করে। অন্যদিকে পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস সকাল সোয়া ১০টায় ছাড়ার কথা থাকলেও ট্রেনটির নতুন সময় নির্ধারণ করা হয় সকাল ১০টা ৪০ মিনিট।
বিলম্বিত একতা এক্সপ্রেসের যাত্রী শরিফুল ইসলাম বলেন, “ঈদের সময় সামান্য বিলম্ব হতেই পারে। ট্রেন এখনও আসেনি, তাই অপেক্ষা করছি। তবে আগের দিনের তুলনায় পরিস্থিতি অনেক ভালো।”
জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসের যাত্রী মাহবুবুর রহমান বলেন, “পথে কোনো ঝামেলা এড়াতে আমরা আগেভাগেই স্টেশনে চলে এসেছি। আজ ট্রেনের বিলম্ব তুলনামূলক কম।”
ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার মো. কবীর উদ্দীন জানান, সকাল থেকে মাত্র দুটি ট্রেন বিলম্ব হয়েছে। তিনি বলেন, “দূরপাল্লার ট্রেনগুলোতে যাত্রীসংখ্যা বেশি থাকে। তাই দ্রুতগতির চেয়ে নিরাপদ যাত্রাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”