ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানী নিকটবর্তী শিল্পনগরী গাজীপুরে বসবাসরত প্রায় ৩০ লাখ কর্মজীবী মানুষ নিজ নিজ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা করেছেন। ঈদের দীর্ঘ ছুটির সুযোগে সোমবার (২৫ মে) থেকে গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেলে শুরু হয় এই ব্যাপক ঘরমুখী যাত্রা।
যাত্রীদের প্রধান চাপ পড়ে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক এবং ঢাকা–ময়মনসিংহ সড়কে। বিশেষ করে গাজীপুরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় তীব্র যানজট ও যানবাহনের সংকট দেখা দেয়। চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকাকে ঘিরে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হয়।
যাত্রাপথে ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দেয় বৃষ্টিপাত, সড়কের তুলনায় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ এবং পরিবহন সংকট। অনেক যাত্রীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে বাসে উঠতে দেখা যায়। কোথাও কোথাও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই বিপুল চাপের মূল কারণ হলো একই সময়ে বিপুল সংখ্যক মানুষের যাত্রা এবং সড়কের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা। ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের সরু অংশ, পর্যাপ্ত টার্মিনালের অভাব এবং পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার ঘাটতিও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে।
গাজীপুর হাইওয়ে পুলিশ সুপার জানান, ঈদযাত্রায় সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ গাজীপুর এলাকা ছেড়েছেন। যানজট নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করলেও বৃষ্টি ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে পুরোপুরি স্বস্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়দের মতে, ভবিষ্যতে এ রুটে স্থায়ী সমাধানের জন্য সড়ক প্রশস্তকরণ, আলাদা বাস টার্মিনাল নির্মাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা জরুরি।