ইপেপার / প্রিন্ট
টানা ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে ১৫ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে শান্তি আলোচনার নতুন দিগন্ত খুলতে এগিয়ে এসেছে পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিদের সংলাপের জন্য ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার ঘোষিত এই যুদ্ধবিরতিতে সমর্থন দিয়েছে ইসরায়েল-ও, যা পুরো পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। যুদ্ধবিরতিতে সম্মতির কিছুক্ষণের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বিবৃতিতে শেহবাজ শরিফ এই পদক্ষেপকে “বিচক্ষণ ও সময়োপযোগী” বলে আখ্যা দেন।
তিনি বলেন, “অত্যন্ত বিনয় এবং আনন্দের সঙ্গে আমি জানাচ্ছি যে ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের সকল মিত্রসহ একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।” একইসঙ্গে তিনি উভয় দেশের নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।
শেহবাজ শরিফ আরও উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু যুদ্ধ থামানো নয়, বরং একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির পথ তৈরি করা। তার ভাষায়, “আমরা আশা করি, ইসলামাবাদ আলোচনা টেকসই শান্তির ভিত্তি গড়ে তুলবে।”
এই সংঘাতের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নকে কেন্দ্র করে প্রায় দুই দশক ধরে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর এই উত্তেজনা চরমে পৌঁছে এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় সামরিক অভিযান।
যুদ্ধ শুরুর পরপরই মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় হয় পাকিস্তান। পরে এতে যোগ দেয় মিসর এবং তুরস্ক। মার্চের মাঝামাঝি সময়ে পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে ১৫ দফা প্রস্তাব পাঠানো হয় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে, তবে তাতে সাড়া দেয়নি তেহরান।
পরবর্তীতে ৪ এপ্রিল নতুন করে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। সেখানে দুই ধাপের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়—প্রথমে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি, এরপর আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান। যদিও শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষ ১৫ দিনের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে একমত হয়।
বর্তমানে বিশ্বের দৃষ্টি এখন ইসলামাবাদের দিকে। এই সংলাপ কি সত্যিই একটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ খুলে দেবে, নাকি এটি হবে কেবল আরেকটি সাময়িক বিরতি—তা নির্ভর করছে আসন্ন বৈঠকের ওপর।