ইপেপার / প্রিন্ট
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পাকিস্তানের রাজধানী Islamabad-এ। এ লক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার রাতে ইরানি প্রতিনিধি দল রওনা হচ্ছে।
পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত Reza Amiri Moghadam সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলের বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের কারণে কূটনৈতিক উদ্যোগ ব্যাহত হচ্ছে এবং এতে ইরানি জনগণের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে। তবুও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী Shehbaz Sharif-এর আমন্ত্রণে ইরান আলোচনায় অংশ নিতে সম্মত হয়েছে।
এর আগে ফেব্রুয়ারির শেষদিকে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় এগিয়ে আসে পাকিস্তান। যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে ১৫ দফার একটি প্রস্তাব ইরানের কাছে পাঠায়, যা তেহরান প্রত্যাখ্যান করে। পরে সংশোধিত প্রস্তাব পুনরায় পাঠানো হলে সেটিতে দুই ধাপের যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনা উল্লেখ করা হয়।
মার্কিন প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ৪৫ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং সেই সময়ের মধ্যেই স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজে বের করার কথা বলা হয়। তবে ইরান এই সময়সীমা কমিয়ে ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয় এবং পাল্টা ১০ দফা দাবি সম্বলিত একটি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠায়।
এই দুই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই ইসলামাবাদে সংলাপের আয়োজন করা হয়েছে। জানা গেছে, ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকবেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার Mohammad Bagher Ghalibaf।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি Karoline Leavitt জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই মার্কিন প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংলাপ শুধু একটি যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাই তৈরি করছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদী আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পথও খুলে দিতে পারে। তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি মাঠের বাস্তবতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এখন সবার নজর ইসলামাবাদের বৈঠকের দিকে—এই সংলাপ কি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে শান্তির নতুন দিগন্ত খুলতে পারবে, নাকি আবারও ভেস্তে যাবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা—সেটিই দেখার বিষয়।