ইপেপার / প্রিন্ট
তেল আবিব: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান–এর সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তিকে ‘খারাপ চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছে ইসরায়েল। দেশটির এক অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তা দাবি করেছেন, এ চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে আরও শক্তিশালী ভূরাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত করতে পারে।
রোববার (২৪ মে) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম Channel 12–কে দেওয়া বক্তব্যে ওই কর্মকর্তা এসব মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “চুক্তির কাঠামো দেখে মনে হচ্ছে, ইরান হরমুজ প্রণালিকে এমনভাবে ব্যবহার করতে পারবে, যা পারমাণবিক অস্ত্রের মতোই ভয়ংকর প্রভাব ফেলতে পারে।”
প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য এ চুক্তির আওতায় ইরান হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেবে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে, নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করবে এবং জব্দকৃত কিছু অর্থ ছাড় দেবে। এতে ইরানের তেল রপ্তানি সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অজ্ঞাত ওই ইসরায়েলি কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তিকে মূলত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন। তার ভাষায়, “ট্রাম্প মনে করছেন এটি একটি বাণিজ্যভিত্তিক চুক্তি হবে, যেখানে হরমুজ প্রণালি খোলা থাকবে এবং আপাতত ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বড় কোনো ছাড় দিতে হবে না।”
তিনি আরও বলেন, চুক্তির প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের পর পরবর্তী পরিস্থিতি কী হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম Axios জানিয়েছিল, ওয়াশিংটন ও তেহরান যুদ্ধবিরতি এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। সম্ভাব্য এ চুক্তির আওতায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতিও দিতে পারে।
ইসরায়েলি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির সরকার সরাসরি আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না দিয়ে অনেক সময় অজ্ঞাত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে। এ ধরনের বার্তার পেছনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু–এর অবস্থানও প্রতিফলিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।