যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন আবারও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। শান্তিচুক্তি নিয়ে নতুন প্রস্তাব ও পাল্টা জবাবকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, যার সরাসরি প্রতিফলন দেখা গেছে তেলের দামে।
গত সপ্তাহে শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে ইরানের রাজধানী তেহরানে নতুন একটি প্রস্তাব পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র। সেই প্রস্তাবের জবাবে রোববার লিখিত প্রতিক্রিয়া জানায় তেহরান। তবে সেই জবাবকে “পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেন Donald Trump এবং নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ এ বিষয়ে পোস্ট দেন তিনি।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য প্রকাশের পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা Reuters জানিয়েছে, তার পোস্টের কিছুক্ষণের মধ্যেই অপরিশোধিত তেলের বাজারে প্রায় ৩ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি ঘটে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল দাঁড়িয়েছে ১০৪.০৬ মার্কিন ডলার, যা আগের তুলনায় প্রায় ২.৮ শতাংশ বেশি। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দামও ২.৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৭.৯৭ ডলারে পৌঁছেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান JPMorgan Chase-এর অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ব্রুস কাসমান রয়টার্সকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যদি বর্তমান সংঘাত অব্যাহত থাকে এবং প্রণালির মাধ্যমে জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক না হয়, তাহলে আগামী দিনে তেলের বাজার আরও বেশি অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। এতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি শুধু জ্বালানি বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং খাদ্য, পরিবহন এবং উৎপাদন খরচেও প্রভাব ফেলতে পারে।