ইপেপার / প্রিন্ট
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে স্থল সেনা পাঠায়, তবে ইরানের সেনারা তাদের মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের সেনারা মার্কিন সেনাদের জ্বালিয়ে দিতে ময়দানে তাদের আসার অপেক্ষায় আছে।”
রোববার (২৯ মার্চ ২০২৬) বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে। স্পিকার বাঘের গালিবাফ বলেন, “শত্রুরা প্রকাশ্যে আলোচনার বার্তা দিচ্ছে, কিন্তু গোপনে স্থল হামলার পরিকল্পনা করছে।”
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, ইরানে কয়েক সপ্তাহব্যাপী স্থল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী USSS ত্রিপোলী উভচর যুদ্ধজাহাজে করে ৩,৫০০ মেরিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের স্থল হামলার সবচেয়ে বড় লক্ষ্যবস্তু হতে পারে খার্গ দ্বীপ, যা ইরানের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। এই দ্বীপ থেকে দেশটি তার অপরিশোধিত তেলের ৯০ শতাংশ রপ্তানি করে।
খার্গ দ্বীপ দখল করতে গেলে মার্কিন সেনাদের ড্রোন, কামান ও রকেট হামলার মুখোমুখি হতে হবে। এছাড়া ইরান যদি পরিস্থিতি জানে, দ্রুত মাইন স্থাপন করতে পারবে।
হরমুজ প্রণালির আশপাশে অবস্থিত অন্যান্য দ্বীপ, যেমন কাশেম, লারাক ও আবু মুসা, ওখানেও ইরান শক্তিশালী প্রতিরক্ষা স্থাপন করেছে। এই দ্বীপগুলোর মাধ্যমে ইরান সামুদ্রিক নৌপথ নিয়ন্ত্রণ ও হুমকির মোকাবিলা করছে।
দ্য গার্ডিয়ান আরও জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরান থেকে ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধকরণকৃত ইউরেনিয়াম সংগ্রহের জন্য সম্ভাব্য স্থল অভিযানও পরিকল্পনা করছে। এই ইউরেনিয়াম গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর নিখোঁজ ছিল।
মধ্যপ্রাচ্যে সেনা মোতায়েন এবং সম্ভাব্য স্থল অভিযান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং উভয় পক্ষই সম্ভাব্য সংঘর্ষের জন্য প্রস্তুত।