ইরানে সামরিক অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপকেও ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে তার দাবি, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারত।
শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম Fox News-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে তার সংশয় রয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, কয়েক মাস আগে পরিচালিত মার্কিন হামলা না হলে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার আরও কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারত।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন। তার মতে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে না থাকলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারত। যদিও ইরান দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে যে তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত।
একই আলোচনায় ট্রাম্প ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধ প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সে সময় ইরাকে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত ছিল ভুল এবং এর পেছনে যে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, পরবর্তীতে তা সঠিক প্রমাণিত হয়নি। মার্কিন প্রশাসনের দাবি ছিল, তৎকালীন ইরাকি নেতা সাদ্দাম হোসেন-এর সরকার গণবিধ্বংসী অস্ত্রের মজুত রেখেছিল। কিন্তু যুদ্ধের পর এমন অস্ত্রের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা চলছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির আড়ালে তেহরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে ইরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, সামরিক সংঘাতের ক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্তের পরিণতি অনেক সময় ভয়াবহ হতে পারে। তার মতে, একটি যুদ্ধ কোনো দেশের অবকাঠামো, অর্থনীতি ও সামগ্রিক উন্নয়নকে বহু বছর পিছিয়ে দিতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলায় কৌশলগত সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তার এই মন্তব্য নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নীতি, ইরান ইস্যু এবং অতীতের সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে বিতর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্য একদিকে ইরান নিয়ে তার কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়, অন্যদিকে অতীতের কিছু মার্কিন সামরিক সিদ্ধান্তের সমালোচনাও তুলে ধরে।