ইপেপার / প্রিন্ট
ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের স্বীকারোক্তি: ‘সামরিক অভিযান না করাই ভালো হতো’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ না করাই ভালো হতো। তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র সময়মতো পদক্ষেপ না নিত, তাহলে ইরান ইতোমধ্যে পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে সফল হতে পারত।
শনিবার (৩১ মে) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকারে তিনি শুধু ইরান নয়, ২০০৩ সালে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান নিয়েও সমালোচনামূলক অবস্থান তুলে ধরেন।
ট্রাম্প বলেন, “আমাদের ইরানে যাওয়া উচিত হয়নি। তবে বাস্তবতা হলো, ইরানের সেই সক্ষমতা ছিল। যদি নয় মাস আগে আমরা তাদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে আঘাত না করতাম, তাহলে আজ তারা পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হয়ে যেতে পারত। তখন মধ্যপ্রাচ্যের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো।”
তার মতে, ইরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, গোটা বিশ্বের নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারত। তিনি ইঙ্গিত দেন যে এমন পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যও মারাত্মকভাবে পরিবর্তিত হতে পারত।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ২০০৩ সালে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানকেও “ভুল সিদ্ধান্ত” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “ইরাকে আমরা খুব খারাপ কিছু করেছিলাম। সেখানে সামরিক অভিযান শুরু করাটা ছিল চরম বোকামি। শুরুতেই আমাদের সেখানে যাওয়া উচিত হয়নি।”
উল্লেখ্য, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রশাসন দাবি করেছিল যে ইরাকের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু করা হয়। তবে পরবর্তীতে তদন্তে এমন কোনো অস্ত্রের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অভিযোগ, বেসামরিক কর্মসূচির আড়ালে ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। যদিও ইরান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান চালানো হয়।
ট্রাম্প দাবি করেন, ওই অভিযানে ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি করা সম্ভব হয়েছে। তবে দেশটির সব কৌশলগত সম্পদ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা যায়নি।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিতে পারত। কিন্তু বিভিন্ন কৌশলগত ও রাজনৈতিক বিবেচনায় সেই পথ বেছে নেওয়া হয়নি।
ট্রাম্পের ভাষায়, “যুদ্ধে অনেক সময় এমন ভুল হয়, যার ফলে একটি দেশ কয়েক দশক পিছিয়ে যেতে পারে। আমরা সেই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইনি।”
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও ইরান প্রশ্নে তার অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে। একই সঙ্গে অতীতের সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে।
বর্তমানে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে উত্তেজনা এখনও পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।