ইপেপার / প্রিন্ট
ইরানে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সহিংসতায় অন্তত পাঁচ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে দেশটির সরকার। রোববার (১৮ জানুয়ারি) দেশটির এক আঞ্চলিক সরকারি কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ওই কর্মকর্তা জানান, বিক্ষোভ-সহিংসতায় নিহতদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে এই পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৫০০ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারি ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, এসব সহিংস ঘটনার জন্য বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও সশস্ত্র দাঙ্গাবাজরা দায়ী। তাদের হামলায় বহু নিরীহ ইরানি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, প্রাণহানির সংখ্যা চূড়ান্ত হিসাবের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কুর্দি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। অতীতেও দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় এসব অঞ্চলে সহিংসতার নজির রয়েছে। ওই এলাকায় কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় বলেও দাবি করা হয়।
সরকারি ওই কর্মকর্তা একই সঙ্গে অভিযোগ করেন, ইসরায়েল ও বিদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী বিক্ষোভকারীদের উসকানি দিয়েছে এবং অস্ত্র সরবরাহ করেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অস্থিতিশীলতার পেছনে বিদেশি শক্তির হাত থাকার অভিযোগ করে আসছে। সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলেছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, ইরানে বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ৩০৮ জনে পৌঁছেছে এবং আরও ৪ হাজার ৩৮২ জনের বিষয়ে তথ্য যাচাই চলছে। সংস্থাটির দাবি, এই সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৪ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অন্যদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম সানডে টাইমস এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সাড়ে ১৬ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে ইরানি চিকিৎসকদের উদ্ধৃত করে বলা হয়, নিহতদের বেশিরভাগই তরুণ এবং তাদের বয়স ৩০ বছরের নিচে। আহত হয়েছেন প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার মানুষ।
সানডে টাইমসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তাবাহিনী মিলিটারি গ্রেডের অস্ত্র ব্যবহার করেছে। মাথা, গলা ও বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে বহু মানুষ নিহত হয়েছেন এবং শটগানের গুলিতে অন্তত ৭০০ জন স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
উল্লেখ্য, গত বছরের শেষ দিকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয় এবং ৭ ও ৮ জানুয়ারি তা সবচেয়ে সহিংস রূপ নেয়। ওই সময় সরকার পতনের আশঙ্কা তৈরি হলেও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফলে বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।