ইপেপার / প্রিন্ট
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রশমনের লক্ষ্যে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সন্ধ্যার পর এই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে বিক্ষোভ শুরুর পর এই প্রথম দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ হলো।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও দপ্তর ক্রেমলিন থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ফোনালাপে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে পুতিনকে অবহিত করেন। তিনি উত্তেজনা প্রশমনের মাধ্যমে দেশকে স্বাভাবিক রাখতে সরকারের চলমান প্রচেষ্টার কথাও তুলে ধরেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত কমিয়ে আনার বিষয়ে উভয় নেতা একমত হয়েছেন। একই সঙ্গে যে কোনো উদ্ভূত সংকট কেবল রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন পুতিন ও পেজেশকিয়ান।
ফোনালাপে দুই নেতা ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়েও ঐকমত্যে পৌঁছান। বিশেষ করে অর্থনীতি, জ্বালানি ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে পারস্পরিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
প্রায় ২০ দিন ধরে দেশজুড়ে চলমান তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে ইরান। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর গত ৪৭ বছরে এত বড় পরিসরের আন্দোলনের মুখে পড়েনি দেশটি। এই বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট, ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি।
বছরের পর বছর অবমূল্যায়নের ফলে ইরানের জাতীয় মুদ্রা রিয়েল বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল লেনদেন হচ্ছে। এর প্রভাবে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা মূল্যস্ফীতি ও ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘট ডাকলে সেখান থেকেই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই এই বিক্ষোভ ইরানের ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং দিন দিন তা আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
বিক্ষোভ দমনে সরকার ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধের পাশাপাশি দেশজুড়ে পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে। সংঘর্ষে ইতোমধ্যে ১২ হাজারের বেশি মানুষের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং গ্রেপ্তার হয়েছেন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী।
এদিকে ইরান সরকার দাবি করেছে, এই সহিংস আন্দোলনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উসকানি রয়েছে। যদিও পশ্চিমা দেশগুলো এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার সঙ্গে পুতিনের ফোনালাপ ইরানের জন্য কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, চলমান সংকট কত দ্রুত প্রশমিত হবে তা এখনো অনিশ্চিত।