মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আবহের মধ্যেই ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোক্যামিকেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, খুজেস্তান প্রদেশে অবস্থিত কারুন মাহশাহর পেট্রোক্যামিকেল কোম্পানির একটি অংশ এ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রোববার রাত থেকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা শুরু হওয়ার পর এটি জ্বালানি অবকাঠামোতে প্রথম বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। হামলার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
ইরানি গণমাধ্যমের তথ্যমতে, কারুন মাহশাহর পেট্রোক্যামিকেল স্থাপনাটি দেশের জ্বালানি ও শিল্প খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলেও একই স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছিল। তখনও ইসরায়েলকে দায়ী করেছিল তেহরান।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূত্রপাত হয় লেবাননের রাজধানী বৈরুত-এ ইসরায়েলি হামলার পর। ইরানের দাবি, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ওই হামলা চালানো হয়। এর জবাবে রাতেই ইরান ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে সোমবার সকালে, যখন ইসরায়েল ইরানের রাজধানী তেহরান, ইস্ফাহান-সহ কয়েকটি এলাকায় পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এরপর হুতি আন্দোলন থেকেও ইসরায়েল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার খবর পাওয়া যায়।
এর কিছু সময় পর ইরানও কয়েক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ইসরায়েলের একাধিক স্থানে এসব ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। কিছু প্রতিবেদনে একটি সামরিক স্থাপনায় সরাসরি আঘাতের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে হামলায় হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। পরিস্থিতির ওপর আন্তর্জাতিক মহল নিবিড় নজর রাখছে এবং সংঘাত নিয়ন্ত্রণে কূটনৈতিক উদ্যোগের আহ্বান জানানো হচ্ছে।