রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, প্রয়োজনে ইরানের সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে সংরক্ষণ করতে প্রস্তুত রয়েছে মস্কো। শনিবার (৯ মে) রাজধানী মস্কোতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই পুতিনের এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পুতিন বলেন, এর আগেও ২০১৫ সালে ইরানের সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে প্রয়োজন হলে আবারও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে রাশিয়া। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং পারমাণবিক ইস্যুতে উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বিবেচনা করা হচ্ছে।
২০১৫ সালে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানিসহ বিশ্ব শক্তিগুলোর মধ্যে একটি ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। Iran Nuclear Deal নামে পরিচিত সেই চুক্তির আওতায় ইরান তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করতে সম্মত হয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরদারির সুযোগ দেয়। বিনিময়ে পশ্চিমা বিশ্ব ইরানের ওপর আরোপিত বিভিন্ন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে।
তবে ২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তের পর ইরানও ধীরে ধীরে তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ শুরু করে এবং চুক্তিটি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে।
সংবাদ সম্মেলনে পুতিন আরও জানান, চলমান সংঘাতের বিভিন্ন পক্ষ ইরান থেকে সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একসময় নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র শর্ত দেয়, ইরানের ইউরেনিয়াম শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেই নিয়ে যেতে হবে। এ অবস্থানের কারণে আলোচনা জটিল হয়ে পড়ে এবং ইরানও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে।
রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, মস্কো এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে এবং তারা কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত খুব দ্রুতই শেষ হবে এবং আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বেরিয়ে আসবে।
বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের এই প্রস্তাব আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, পারমাণবিক ইস্যু এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যের ক্ষেত্রে রাশিয়ার সক্রিয় ভূমিকার ইঙ্গিত হিসেবেও এটি দেখা হচ্ছে।
তবে রাশিয়ার এই প্রস্তাব নিয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, আগামী কয়েকদিনে বিষয়টি নিয়ে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা দেখা যেতে পারে।