ইপেপার / প্রিন্ট
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় আজ সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে আঘাত হানা ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। ভূমিকম্প শুরু হতেই উঁচু ভবন দুলে ওঠায় আতঙ্কিত বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ও কর্মস্থল ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। বিভিন্ন এলাকায় দেয়াল ধস ও ফাটলের ঘটনা ঘটে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. মঈনুল আহসান জানিয়েছেন, ঢাকায় অন্তত তিনজনের মৃত্যু এবং শতাধিক মানুষের আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। সব হাসপাতালে জরুরি মেডিকেল টিম কাজ করছে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিস্থিতি সরাসরি মনিটর করছে। ঢাকার নিহত তিনজনের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেলেও বাকিদের পরিচয় জানা যায়নি।
ঢাকার বাইরে নরসিংদীতে দুজন এবং নারায়ণগঞ্জে একজনের মৃত্যু হয়েছে। নরসিংদীর গাবতলীতে দেয়াল চাপা পড়ে ১০ বছর বয়সী ওমর নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়। পলাশে মাটির দেয়াল ধসে এক বৃদ্ধা মারা যান। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দেয়াল ধসে মারা গেছে ফাতেমা নামে এক বছরের শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের একজন হলেন মেডিকেল কলেজের ৫২তম ব্যাচের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাফিউল ইসলাম। তার মা-সহ অনেকেই গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আনঅফিসিয়াল তথ্যে জানা গেছে—স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেলে ১০ জন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন এবং গাজীপুরের তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজে আরও ১০ জন আহত ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ৪৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। ১০০ বেড হাসপাতালেও ১০ জন আহত ভর্তি আছেন।
গাজীপুরের শ্রীপুরে আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে শতাধিক পোশাক শ্রমিক আহত হয়েছেন। গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ির ডেনিমেক কারখানা এবং ইটাহাটা এলাকার কোস্ট টু কোস্ট কারখানায় ভূমিকম্প টের পাওয়ামাত্র শ্রমিকরা দ্রুত নিচে নামতে গিয়ে অনেকে পড়ে গিয়ে ও পদদলিত হয়ে আহত হন। গুরুতরদের ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শ্রমিকরা জানান, ভবন দুলতে শুরু করলে সাইরেন বেজে ওঠে, আর তখনই ভয় পেয়ে নিচে নামার সময় ভিড়ের মধ্যে অনেকেই আহত হন।
ভূমিকম্পের পর গাজীপুর, টঙ্গী, জয়দেবপুর, কালিয়াকৈর, শ্রীপুর, কালীগঞ্জ ও কাপাসিয়ায় মোবাইল নেটওয়ার্কে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। কলড্রপ ও নেটওয়ার্ক জটিলতা দেখা দেয়। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলম হোসেন জানিয়েছেন, বড় ধরনের কোনো কাঠামোগত ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে হুড়োহুড়িতে কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন।
দেশব্যাপী ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র জানতে প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও উদ্ধারকারী বাহিনী কাজ করছে। নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে।