ইপেপার / প্রিন্ট
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প মালিকরা দেশীয় সুতার দাম আমদানিকৃত সুতার চেয়ে ২০ সেন্ট বেশি হলেও তা কেনার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। তাদের দাবি, সরকার সুতা আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা প্রত্যাহার করার আগে নিশ্চিত করলে, তারা দেশের স্পিনিং মিলের স্বার্থে দেশীয় সুতার ব্যবহার বাড়াবেন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এই দাবি জানান।
বর্তমানে ৩০ কার্ডের এক কেজি দেশীয় সুতা ৩ মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়, যেখানে ভারতীয় আমদানি করা সুতা ২.৬০ ডলারে পাওয়া যায়। মূলত কম দামের কারণে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা ভারত, চীন ও ভিয়েতনাম থেকে সুতার আমদানি করেন।
বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপ করলে রপ্তানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আমরা দেশীয় মিলগুলো রক্ষা করতে চাই, কিন্তু বন্ডেড সুবিধা প্রত্যাহার করলে তা তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য বড়ো ধাক্কা হবে। ইতিমধ্যে গত ছয় মাস ধরে রপ্তানি কমছে, শুল্ক আরোপ হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”
বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান বলেন, “বিশ্ববাজারের মন্দাভাব, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জ্বালানি সংকটের মধ্যে এই শুল্ক আমাদের শিল্পকে আরও কোণঠাসা করবে। সরকারের প্রতি আমাদের অনুরোধ, শুল্ক আরোপ প্রত্যাহার করা হোক। এর বদলে সরাসরি নগদ সহায়তা, বিশেষ প্রণোদনা, কর্পোরেট ট্যাক্সে রেয়াত, স্বল্প সুদে ঋণ, এবং গ্যাস-বিদ্যুতের সাশ্রয়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা যেতে পারে।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, বিজিএমইএর সিনিয়র সহ সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ সভাপতি রেজওয়ান সেলিম, পরিচালক ফয়সাল সামাদ প্রমুখ।