ইপেপার / প্রিন্ট
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান বলেছেন, কিছু বিপথগামী কর্মচারী জনগণকে জিম্মি করে বন্দর কার্যক্রম বন্ধ করার পথ বেছে নিয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা রাষ্ট্রের কর্মচারী-কর্মকর্তা, আমাদের আনুগত্য থাকবে রাষ্ট্রের প্রতি। কেউ যদি অন্য কারো আনুগত্য বেছে নেয়, সেটা কর্মকর্তা-কর্মচারী আচরণ বিধির সম্পূর্ণ পরিপন্থি।”
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বন্দর ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, বন্দর সচল রয়েছে এবং কর্মচারীরা আবার কাজে যোগ দেবে।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ, এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে লিজ দেওয়ার প্রতিবাদে ৩১ জানুয়ারি থেকে কর্মবিরতি পালন শুরু করে। ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের আন্দোলনের কারণে বন্দরের সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার এম সাখাওয়াত হোসেন ৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে যান এবং বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর শ্রমিকরা দুই দিনের জন্য আন্দোলন স্থগিত রাখে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ আন্দোলনরত ১৫ জন শ্রমিক নেতার স্থাবর–অস্থাবর সম্পদ তদন্তের জন্য দুদকে আবেদন করেছে এবং তাদের দেশত্যাগ রোধের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করেছে। আন্দোলনের মধ্যে তাদের মধ্যে কিছু নেতাকে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়েছে।
এর প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর ৭ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ঘোষণা দেন। রোববার থেকে ধর্মঘটের কারণে বন্দরের সব জেটি, টার্মিনাল, কনটেইনার ডিপো এবং বহির্নোঙর বন্ধ রয়েছে। বন্দরের বিভিন্ন গেটে বাড়তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।