ইপেপার / প্রিন্ট
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বন্দর নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে চট্টগ্রাম বন্দরে আইএসপিএস (ISPS) কোডের আওতায় একটি লাইভ অ্যান্টি-টেররিজম মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বিভাগের উদ্যোগে এ মহড়ার আয়োজন করা হয়।
মহড়ার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস. এম. মনিরুজ্জামান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ এবং পরিচালক (নিরাপত্তা) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
আন্তর্জাতিক জাহাজ ও বন্দর স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আন্তর্জাতিক জাহাজ ও বন্দর স্থাপনা নিরাপত্তা বিধিমালা (আইএসপিএস) কোড অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। এই কোডের আওতায় সন্ত্রাসী হামলা, নাশকতা ও অন্যান্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় জাহাজ ও বন্দর স্থাপনার জন্য নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ধরন পরিবর্তিত হওয়ায় বাস্তবভিত্তিক প্রস্তুতি ও নিয়মিত মহড়ার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, কেবল কাগজে-কলমে প্রস্তুতির ওপর নির্ভর না করে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত ড্রিল ও মহড়ার মাধ্যমে বন্দর নিরাপত্তা ব্যবস্থার সক্ষমতা যাচাই করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সন্ত্রাসবিরোধী প্রস্তুতিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এই লাইভ মহড়ার আয়োজন করা হয়।
মহড়ায় বন্দর স্থাপনার নিরাপত্তা স্তর–১, ২ ও ৩ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিভিন্ন সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতা প্রদর্শন করা হয়। এতে ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত, যানবাহনভিত্তিক নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা, অগ্নিকাণ্ড পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, সন্দেহজনক বস্তু ও বোমা হুমকিতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া, নদীপথে সন্দেহজনক নৌযান আটক এবং কনটেইনার ইয়ার্ডে আত্মগোপনকারী অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনার দৃশ্য তুলে ধরা হয়।
এই মহড়ায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং বাংলাদেশ আনসার বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন। মহড়ার মাধ্যমে বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয়, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কুইক রেসপন্স টিমের কার্যকারিতা বাস্তবে প্রদর্শিত হয়।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, মহড়া শেষে প্রাপ্ত মূল্যায়নে দেখা গেছে—আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সন্ত্রাসবাদসহ যেকোনো ধরনের নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় চট্টগ্রাম বন্দর সক্ষম। ভবিষ্যতেও বন্দর নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে নিয়মিত এ ধরনের মহড়া অব্যাহত রাখা হবে।