ইপেপার / প্রিন্ট
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে উত্তেজনা যেন ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। মধ্য ইরানে একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার ঘটনার রেশ না কাটতেই আবারও নতুন করে মার্কিন-ইসরায়েলি একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। সর্বশেষ এই দাবি অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ ও জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) ভোরে ইরানের আকাশসীমায় একাধিক যুদ্ধবিমান অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায় বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা Tasnim News Agency। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোরের দিকে কয়েকটি অজ্ঞাত যুদ্ধবিমান ইরানের আকাশে প্রবেশ করলে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং ব্যাপক গোলাবর্ষণ শুরু করে।
ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়ে অনুপ্রবেশকারী বিমানগুলো দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় পাইলটরা নিজেদের রক্ষা করতে ফ্লেয়ার ছুড়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা চালায়। তবে সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে একটি যুদ্ধবিমান সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে বিধ্বস্ত হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রকাশিত কিছু ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, ভূপাতিত বিমানটি হয়তো F-16 Fighting Falcon অথবা অত্যাধুনিক F-35 Lightning II হতে পারে। তবে ধ্বংসাবশেষে কেবল একটি ইঞ্জিনের নির্গমন পথ (এক্সহস্ট) দৃশ্যমান হওয়ায় বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশ এটি F-16 Fighting Falcon হওয়ার সম্ভাবনাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
এর আগে একই অঞ্চলে F-15E Strike Eagle ভূপাতিত করার দাবি ঘিরেও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছিল। তবে এসব দাবির সত্যতা নিয়ে এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের দাবি ও পাল্টা দাবি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে আকাশসীমা লঙ্ঘন এবং সামরিক প্রতিক্রিয়ার ঘটনাগুলো বড় ধরনের সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে ভুল সিদ্ধান্ত বা ভুল বোঝাবুঝি বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যা পুরো অঞ্চলকেই অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এই ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা এখনও কাটেনি।