ইপেপার / প্রিন্ট
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সঙ্গে চলমান ঋণ কর্মসূচি নিয়ে বিভিন্ন ইস্যুতে সৃষ্ট মতপার্থক্য দ্রুত সমাধানের আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী Amir Khasru Mahmud Chowdhury। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে International Monetary Fund ও World Bank-এর বসন্তকালীন বৈঠকের ফাঁকে আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে এবং এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও দ্রুত সমাধানের আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, আইএমএফের ঋণের পরবর্তী কিস্তি নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনাকে একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য আইএমএফের ৫৫০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচি চলমান রয়েছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে পরে আরও অর্থ যুক্ত হয়। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রায় ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে, বাকি রয়েছে প্রায় ১৮৬ কোটি ডলার।
আইএমএফের পক্ষ থেকে ব্যাংকিং খাত সংস্কার, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, একক ভ্যাট হার চালু এবং কর ছাড় কমানোর বিষয়ে অগ্রগতির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সংস্থাটির লক্ষ্য অনুযায়ী জিডিপির তুলনায় রাজস্ব আদায় বাড়ানোর কথা থাকলেও বাংলাদেশ এখনো সেই লক্ষ্য পূরণে পিছিয়ে রয়েছে।
আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন জানিয়েছেন, বাংলাদেশের আর্থিক, রাজস্ব ও বিনিময় হার খাতে এখনো উল্লেখযোগ্য সংস্কার প্রয়োজন রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং একই সঙ্গে বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকা ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত সহায়তা পাওয়ার চেষ্টা চলছে। সম্ভাব্য মোট সহায়তা ৩০০ কোটি ডলারের বেশি হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ছে এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার বিষয়েও উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।