অ্যাঙ্গোলায় নিযুক্ত বাংলাদেশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত মিয়া মো. মাইনুল কবির দেশটির প্রেসিডেন্ট João Lourenço-এর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয়পত্র পেশ করেছেন।
পরিচয়পত্র পেশের পর রাষ্ট্রদূত প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে মিলিত হন। এ সময় তিনি বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে অ্যাঙ্গোলার সরকার ও জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি দেশের প্রধান রপ্তানি খাতসমূহ—বিশেষ করে তৈরি পোশাক, ওষুধশিল্প ও কৃষিপণ্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে অ্যাঙ্গোলার বাজারে এসব পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তুলে ধরে অ্যাঙ্গোলার ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
জ্বালানি খাতে সহযোগিতার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। রাষ্ট্রদূত অ্যাঙ্গোলা থেকে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানির সম্ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানান এবং এ বিষয়ে প্রেসিডেন্টের সহায়তা কামনা করেন। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তোলা এবং সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সরাসরি যোগাযোগ জোরদারের প্রস্তাব দেন।
কৃষি খাতে বাংলাদেশের সাফল্য তুলে ধরে ‘কন্ট্রাক্ট ফার্মিং’ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতার আহ্বানও জানান তিনি। এছাড়া জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি অ্যাঙ্গোলার সমর্থন কামনা করেন।
প্রেসিডেন্ট João Lourenço বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করেন এবং তৈরি পোশাক, ফার্মাসিউটিক্যাল, জ্বালানি ও কৃষিখাতে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি আলোচিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালনে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদানের কথা জানান। পাশাপাশি সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আগ্রহও ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে অ্যাঙ্গোলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী Tete António উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, মিয়া মো. মাইনুল কবির বর্তমানে Nigeria-এ বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং সমদূরবর্তী হিসেবে Angola-এ রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বও পালন করছেন।