ইপেপার / প্রিন্ট
রাজধানীর তেজগাঁওয়ের গুরুত্বপূর্ণ সাতরাস্তা মোড়ে কারিগরি শিক্ষার্থীদের কয়েক ঘণ্টার সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করা হলেও যানজট থেকে মুক্তি পায়নি নগরবাসী। দীর্ঘ সময় সড়ক বন্ধ থাকায় সৃষ্ট গাড়ির চাপের কারণে অবরোধ শেষের পরও আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট দেখা দেয়।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শিক্ষার্থীরা সড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল শুরু হয়। তবে অবরোধ চলাকালে আটকে পড়া বিপুল সংখ্যক যানবাহনের কারণে সাতরাস্তা, বিজয়নগরসহ সংলগ্ন সড়কগুলোতে ধীরগতির যান চলাচল ও দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগীবাহী যান ও গণপরিবহনের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে দেন।
তিনি বলেন,
“সাতরাস্তা মোড় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক পয়েন্ট। এখানে অবরোধ থাকায় বিজয়নগরসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। শিক্ষার্থীরা চলে গেলেও দীর্ঘ সময় রাস্তা বন্ধ থাকায় যানবাহনের বড় চাপ তৈরি হয়েছে। জট স্বাভাবিক হতে আরও অন্তত এক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।”
এর আগে, দশম গ্রেডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের পাশাপাশি বিএসসি প্রকৌশলীদের অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশের প্রতিবাদে আন্দোলনে নামেন কারিগরি শিক্ষার্থীরা। ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সাতরাস্তা মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
অবরোধ চলাকালে সাতরাস্তা এলাকায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে তেজগাঁও, ফার্মগেট, মগবাজার ও বিজয়নগর রুটে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় তারা বাধ্য হয়েই সড়কে নামতে বাধ্য হয়েছেন। দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতেও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
পরে ট্রাফিক পুলিশের মধ্যস্থতায় শিক্ষার্থীরা বিকেলের দিকে সড়ক ছেড়ে দিলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত যানজটের রেশ থেকে যায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে।