ইপেপার / প্রিন্ট
বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান তারা। জনগণের সমর্থনে বিএনপি অতীতে একাধিকবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে সময় অনিচ্ছাকৃত কিছু ভুলত্রুটি হয়ে থাকতে পারে, যার জন্য তিনি দেশবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছেন।
জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। ভাষণটি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে একযোগে সম্প্রচার করা হয়।
তারেক রহমান বলেন, জনগণই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক। অথচ ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা ও সম্পদ জনগণের পরিবর্তে একটি মাফিয়া সিন্ডিকেটের হাতে কুক্ষিগত ছিল। এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি শুধু রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নয়, জনগণের ন্যায্য অধিকার ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে চায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা বিবেচনায় রেখেই বিএনপির আগামীর বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। দেশের প্রায় ৪০ লাখ প্রতিবন্ধী মানুষের কল্যাণে বিশেষ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্রের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে এবং বিএনপি সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে প্রায় দুই লাখ মসজিদে কর্মরত খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের একটি বড় অংশ আর্থিকভাবে পিছিয়ে রয়েছেন। জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে এসব ধর্মীয় নেতাদের জন্য রাষ্ট্রীয় আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।
প্রশাসনিক সংস্কারের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি দেশের সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর করে দলীয়করণ করেছে। বিএনপির শাসনামলে প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সাংবিধানিক নিয়মে পরিচালিত হবে। প্রশাসনে নিয়োগ ও পদোন্নতি হবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সময়মতো জাতীয় পে স্কেল ঘোষণা ও বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন তিনি।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বৈদেশিক আয়ের ক্ষেত্রে প্রবাসীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাদের সুযোগ-সুবিধা ও মর্যাদা দীর্ঘদিন অবহেলিত। এ সমস্যা সমাধানে বিএনপি প্রবাসী কার্ড প্রবর্তনের পরিকল্পনা নিয়েছে, যার মাধ্যমে বিনিয়োগ সুরক্ষা, বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধসহ বিভিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি দক্ষ শ্রমিকদের বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য সহজ শর্তে রাষ্ট্রীয় ঋণ সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সব ধর্ম ও মতের মানুষ নিরাপদে বসবাস করবে। তিনি বলেন, “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার”—এ নীতিতেই বিএনপি বিশ্বাস করে। ধর্মীয় চরমপন্থা কিংবা স্বৈরাচার—কোনোটিই গণতান্ত্রিক জনগণ গ্রহণ করে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভাষণের শেষাংশে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেন। খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও আপসহীন অবস্থানের প্রশংসা করে তারেক রহমান বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক মুহূর্ত সামনে এসেছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দিন উল্লেখ করে তিনি স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সব নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানান ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য। তার ভাষায়, “ধানের শীষের বিজয় মানেই বাংলাদেশের বিজয়, একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও তাবেদারমুক্ত বাংলাদেশ।”