ইপেপার / প্রিন্ট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বিষয়ক গণভোটে প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলে ‘হ্যাঁ’ ভোট স্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছে।
সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দেশের ২৯৯টি আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকার বিভিন্ন আসনের ১০৬টি কেন্দ্রের ফলাফলে দেখা গেছে, সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৬৯ হাজার ৩৪৭টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ১৯ হাজার ৯৪৫টি।
এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সংবিধানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যকর হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়বে এবং তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই কয়েকটি সাংবিধানিক ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দিতে পারবেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আসবে; উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের সদস্যদের গোপন ব্যালটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
এছাড়া ১০০ সদস্যবিশিষ্ট উচ্চকক্ষ গঠনের বিধান থাকবে, যেখানে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে আসন বণ্টন করা হবে। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ বা ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন এবং প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান একই ব্যক্তি হতে পারবেন না।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের মাধ্যমে অর্থবিল ও অনাস্থা ভোট ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা যুক্ত হবে। বিচার বিভাগীয় নিয়োগ প্রক্রিয়ায়ও কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে।
এছাড়া জরুরি অবস্থায় মৌলিক অধিকার খর্ব না করা, নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির মতো বিষয়ও সনদে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে এগুলো এখনো বেসরকারি ও আংশিক ফলাফল। চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।