ইপেপার / প্রিন্ট
দেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ আরও সহজ ও সবার জন্য উপযোগী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে যেখানে দেশি ও বিদেশি উদ্যোক্তারা নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন এবং একই সঙ্গে কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে।
বুধবার (১০ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য ব্যবসায়িক শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। সে লক্ষ্যেই সরকার বিনিয়োগবান্ধব কাঠামো গড়ে তুলছে এবং বাজেট প্রণয়নে এ বিষয়গুলো গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে অনলাইন সেবা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। রপ্তানি নীতি হালনাগাদ এবং আমদানি নীতি ২০২৬–২০২৯ যুগোপযোগী করার কাজ চলছে, যাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সহজে বাজারে প্রবেশ করতে পারেন।
এছাড়া ব্যবসা সহজীকরণের অংশ হিসেবে বন্ডেড ও নন-বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের জন্য আমদানির নিয়ম সহজ করা হচ্ছে এবং মূল্য পরিশোধ পদ্ধতিও আরও নমনীয় করা হচ্ছে। এলসি ছাড়াই নির্দিষ্ট শর্তে আমদানির সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
বাণিজ্য প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিয়ে যেতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) চুক্তি বাস্তবায়ন ও ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিনিয়োগ উন্নয়নে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-সহ বিভিন্ন সংস্থার সংস্কার কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিডা, বেজা, পিপিপি কর্তৃপক্ষ এবং হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষকে একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে বিনিয়োগকারীরা একক প্ল্যাটফর্মে সেবা পান।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মূলধন প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বয়ে একটি জাতীয় কমিটি কাজ করছে বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও পূর্বানুমানযোগ্য করার জন্য প্রশাসনিক সংস্কার চলমান রয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য হলো বিনিয়োগ বাড়ানো, শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা—এমনটাই সংসদে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।