1. numanashulianews@gmail.com : kazi sarmin islam : kazi sarmin islam
  2. admin@newstvbangla.com : newstvbangla : Md Didar
সংসদে তোপের মুখে অর্থমন্ত্রী - NEWSTVBANGLA
রবিবার, ১৯ মে ২০২৪, ০১:১৩ পূর্বাহ্ন

সংসদে তোপের মুখে অর্থমন্ত্রী

প্রতিনিধি

প্রকাশ ১১ জুন ২০১৮

ব্যাংকিং খাতে অব্যবস্থাপনা ও লুটপাট নিয়ে রোববার সংসদে তোপের মুখে পড়েন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ব্যাংক লুটকারী ও অর্থ পাচারকারীদের ধরতে না পারায় এবং পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে না পারায় সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা তার কঠোর সমালোচনা করেন।

জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্যাংকিং খাতের অব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা শুরু করেন আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি অধ্যাপক আলী আশরাফ। এরপর আলোচনায় তাল মেলান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির এমপি কাজী ফিরোজ রশিদ, স্বতন্ত্র এমপি রুস্তম আলী ফরাজীসহ বেশ কয়েকজন এমপি।

অধ্যাপক আলী আশরাফ শুরুতে সরকারের বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরে বলেন, ‘আমাদের আবাদি জমি কমেছে, কিন্তু খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে। দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এটা অভূতপূর্ব সাফল্য। তা ছাড়া অবকাঠামো উন্নয়নে অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছে।’

তিনি বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে যুগান্তকারী সাফল্য হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিরাট বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য খাতে বিরাট সাফল্য অর্জন করেছি। সাধারণ মানুষ আজ কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে ৩২ রকমের ওষুধ ফ্রি পাচ্ছেন।

এখন আমরা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। তবে এডিপি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু শৈথিল্য আছে। সেগুলো দূর করতে হবে।’ এর পরই তিনি ব্যাংকিং খাতের অব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলা শুরু করেন। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা আনা দরকার। এ খাতে শৃঙ্খলা আনতে না পারলে দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়বে।

কিছু মানুষ ব্যাংকিং খাতে লুটপাট করবে, বিদেশে অর্থ পাচার করবে, এটা হতে পারে না। ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচারকারীদের আপনি ধরেন। কুমিল্লার সংসদ সদস্য সাবেক এই ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, ‘ব্যাংকের লুটপাট থেকে বেরিয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে না পারলে বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হবে না।’

এ ছাড়া তিনি বলেন, করের আওতা বাড়াতে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কর অফিস করেন। বিমান চলছে না, বিদেশিরা এসে বিমানে উঠলে মনে করে যেকোনো সময় ভেঙে পড়বে। সর্বত্র ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা চলছে। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতে যে লুটপাট হয়েছে তা ভারতের সমনাথ মন্দিরের লুটপাটের সঙ্গে তুলনা করা যায়। তখন সমনাথ মন্দির আক্রমণ করে ২০ বিলিয়ন ডলার লুটপাট করা হয়েছিল। বাংলাদেশে ব্যাংক লুটপাটের আগ পর্যন্ত এত বড় লুটপাটের ঘটনা আর ঘটেনি। সামনে নির্বাচন, নির্বাচনের আগে এই ব্যাংক মালিক লুটপাটকারীরা দেশে থাকবে না, তাদের খুঁজেও পাবেন না। তারা বিদেশে পালিয়ে যাবে, এরই মধ্যে ভিসা লাগিয়ে ফেলেছে।’

অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ব্যাংক খেলাপি কারা? এটা কি আপনি জানেন না? কেন তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছেন না। এরা ২৪ হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছে। এসব ভুয়া বাজেট দিয়ে কাজ হবে না। এই বাজেটের মধ্যে কিছু নেই। ধনীকে খুশি, গরিবকে নিঃস্ব আর ব্যাংক ডাকাতদের উৎসাহিত করেছেন এই বাজেটে।’

ব্যাংকে আমানত রাখতে মানুষ এখন ভয় পায় মন্তব্য করে স্বতন্ত্র সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, ‘ব্যাংকে টাকা রাখে মানুষ নিরাপত্তার জন্য। মানুষ ভীত হয়ে গেছে। টাকা পাচার হয়ে যায়।’

তিনি বলেন, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ঋণখেলাপিরা টাকা দেশেও রাখে না, বিদেশে পাচার করে। এরা ব্যাংকের কিছু আর রাখবে না। যারা ব্যাংকে লুটপাট করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। লুটপাটকারীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করার জন্য কী করা যেতে পারে, সেটা অর্থমন্ত্রীকে ভাবতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ নিয়ে এই টাকা আদায়ে কী করা যায় করেন, তাহলে জনগণ আস্থা ফিরে পাবে।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসনে চলছে অনিয়ম। বেতন বাড়ানো হল, তারপরও কর্মকর্তারা ঘুষ খায়। তারা বেতন নিলে ঘুষ বন্ধ করতে হবে। আর ঘুষ নিলে বেতন বন্ধ করতে হবে। একসঙ্গে দুটো চলবে না।’

সোহরাব উদ্দিন কালো টাকা সাদা করার সুযোগ সৃষ্টির দাবি করে বলেন, ‘এ টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যায়। যদি এটি সাদা করার সুযোগ দেয়া হয়, তাহলে আমাদের প্রবৃদ্ধি বাড়বে।’

এরপর একে একে জাতীয় পার্টির নূরুল ইসলাম ওমর, পীর ফজলুর রহমানসহ অন্য এমপিরা তাদের বক্তব্যে ব্যাংকিং খাতের অব্যবস্থাপনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে লুটপাটকারীদের ধরে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।

সাবেক মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির বিষয়টি দ্রুত বিবেচনায় নেয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, দীর্ঘ ২০-২৫ বছর ধরে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা এক প্রকার না খেয়ে আছে। বেসরকারি খাত থেকে পাওয়া সামান্য অর্থ দিয়ে তাদের দিন চলে। শিক্ষার উন্নয়নের স্বার্থে এ বিষয়ে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে।

বিদ্যুৎ খাতের অভূতপূর্ব উন্নয়নে সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ২০২০ সালের মধ্যে সরকার ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উন্নয়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। আর সেটা হলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার লক্ষ্যে দ্রুতই পৌঁছা যাবে।

নূরুল ইসলাম ওমর বলেন, প্রত্যেকটি ভালো কাজের সঙ্গে একটি খারাপ বিষয় যুক্ত হয়ে যাচ্ছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারীকরণে তেমনটি হয়েছে। তিনি বলেন, বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারি সংস্থাগুলো নিয়ম মানছে না। অনেকেই বরাদ্দের টাকা খরচ করতে পারেন না। কিন্তু টাকা ধরে রাখেন। খরচ না করতে পারলে টাকা ফেরত দিন।

তিনি বলেন, ব্যাপক পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। যাদের কোনো কাজ নেই। আবার আমার বগুড়া জেলা পরিষদে দীর্ঘদিন ধরে সচিব নেই। তাহলে এ প্রতিষ্ঠানটি চলবে কীভাবে? যেসব মন্ত্রণালয় ব্যর্থ হচ্ছে, তাদের সম্পূরক বাজেট অনুমোদন না দেয়ার দাবি জানান তিনি।

বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পীর ফজলুর রহমান বলেন, বড় বাজেট নিয়ে আত্মতুষ্টির কিছু নেই। কারণ গড় মাথাপিছু আয় ৭০০ ডলার থেকে বেড়ে এক হাজার ৭০০ ডলার হলেও সুনামগঞ্জের সাধারণ মানুষের আয় কত? তাদের আয় কমেছে। মানুষে মানুষে বৈষম্য বেড়েছে। অনেকেই সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। ধনী ও বিত্তশালীরা ফুলেফেঁপে বড় হচ্ছে। গরিব আরও গরিব হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি তদন্তে ব্যাংক লুটপাটকারীদের নাম উঠে এসেছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে সুবিধা দেয়া হচ্ছে। সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে বাজেট বরাদ্দের সুবিধা প্রান্তিক জনগণের কাছে পৌঁছাতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে বেসরকারি স্কুল-কলেজ এমপিওভুক্তিতে বিশেষ বরাদ্দ রাখার দাবি জানান সরকারি দলের সদস্য সোহরাব উদ্দিন। তিনি ব্যাংক খাতের লুটপাটকারীদের শাস্তির পাশাপাশি মানি লন্ডারিং বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান।

অনলাইন ডেস্ক

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2015
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: রায়তাহোস্ট