সোমবার (১১ মে) আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত সোনার দাম কমেছে। একই সঙ্গে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। Reuters-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রিনিচ মান সময় অনুযায়ী দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স দাঁড়ায় ৪,৬৮৪.৩২ মার্কিন ডলার। একই সময় জুন মাসের ডেলিভারির জন্য ইউএস গোল্ড ফিউচারসও ০.৮ শতাংশ কমে ৪,৬৯২.৭০ ডলারে নেমে আসে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় ওঠানামার অংশ।
বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্রুত কোনো সমঝোতার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা এখন অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার মতে, এই অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি বিবেচনায় সোনা থেকে সরে যাচ্ছে এবং জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়ছে।
অন্যদিকে, Donald Trump সম্প্রতি ইরানের দেওয়া একটি লিখিত জবাবকে প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের পাল্টা হিসেবে দেওয়া ওই জবাবকে তিনি “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেন। এই মন্তব্যের পরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লে সাধারণত জ্বালানির সরবরাহ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এর ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যায়, যা ইতোমধ্যে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় রয়েছে। এর আগে চুক্তির আশায় তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছিল, যা এখন আবার পরিবর্তনের পথে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংকট দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে শুধু তেলের দাম নয়, বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি ও বিনিয়োগ বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।