ইপেপার / প্রিন্ট
ওয়াশিংটন/ঢাকা: ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে, বিক্ষোভকারীদের হত্যা ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা বন্ধ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গতকাল বুধবার (১৪ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমরা নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানতে পেরেছি যে ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পরিকল্পনাও স্থগিত করা হয়েছে।”
এর আগে মঙ্গলবার ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই বার্তায় তিনি ইরানের জনগণকে জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, “ইরানে বিক্ষোভ দমন করতে নির্বিচারে গুলি চালানো হচ্ছে। এসব হত্যা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমি ইরানের কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করব না।”
গত দু’সপ্তাহ ধরে ইরানে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভের মূল কারণ দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি ও ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি। ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়েলের অবমূল্যায়ন বিশ্বে নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে এক ডলারের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে।
মৌলিক খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই কষ্টে জীবন যাপন করছেন। এর প্রেক্ষিতে ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের বাজারে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দেন, যা ছড়িয়ে পড়ে দেশের ৩১টি প্রদেশের শহর ও গ্রামে।
ইরানের সরকার ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করেছে এবং দেশজুড়ে পুলিশ ও সেনা মোতায়েন করেছে। এর ফলে ইতোমধ্যেই ১২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার বিক্ষোভকারী গ্রেপ্তার হয়েছেন।
গতকাল বুধবার ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, গ্রেপ্তার বিক্ষোভকারীদের দ্রুত বিচার ও ফাঁসির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী হত্যা ও মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সতর্কবার্তার প্রেক্ষিতে ইরানের প্রশাসন কর্তৃক নেওয়া এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নজর কাড়ছে।