ইপেপার / প্রিন্ট
যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষের পথে। তবে এখন পর্যন্ত একটি ম্যাচেও উপস্থিত হননি দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র দল নকআউট পর্বে উঠলেও তার অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনা চলছে।
বিবিসি স্পোর্টের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। একইভাবে ২০১৮ সালে রাশিয়ার উদ্বোধনী ম্যাচে ছিলেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ২০২২ সালে কাতারের প্রথম ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। সেই তুলনায় ট্রাম্পের অনুপস্থিতি নজর কেড়েছে।
যদিও বিশ্বকাপের আগে ট্রাম্প টুর্নামেন্ট নিয়ে বেশ উৎসাহ দেখিয়েছিলেন। ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, ড্র অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং ফিফার শান্তি পুরস্কার গ্রহণ—সব মিলিয়ে ধারণা করা হয়েছিল তিনি বিশ্বকাপে নিয়মিত উপস্থিত থাকবেন।
তবে উদ্বোধনী ম্যাচের দিন তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসে যাননি। পরে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ট্রেলিয়া ও তুরস্কের বিপক্ষের ম্যাচেও অনুপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যস্ত সরকারি কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা এবং কিছু অঙ্গরাজ্যে সম্ভাব্য বিরূপ প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা তার মাঠে না যাওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে।
এদিকে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ফাইনালে ট্রাম্প উপস্থিত থাকবেন এবং বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন। ট্রাম্প নিজেও জানিয়েছেন, তাকে এ দায়িত্ব পালনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
তবে হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্কফোর্সের কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ফাইনালের আগেও হঠাৎ কোনো ম্যাচে ট্রাম্পকে দেখা যেতে পারে। তাদের ভাষায়, প্রেসিডেন্ট নাটকীয় মুহূর্ত পছন্দ করেন এবং শেষ মুহূর্তের চমক দিতে ভালোবাসেন।
বিশ্বকাপ চলাকালে ট্রাম্প মাঠে না গেলেও যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা বিভিন্ন ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি উদ্বোধনী ম্যাচের আগের দিন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে ফোনে কথা বলে শুভকামনা জানান বলে জানা গেছে।