ইপেপার / প্রিন্ট
পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড মোতায়েন করেছে ভারত। বিশ্বের শীর্ষ অস্ত্র গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ সংস্থা Stockholm International Peace Research Institute (এসআইপিআরআই)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ভারত পারমাণবিক অস্ত্র এবং সেগুলো বহনের ব্যবস্থা আলাদাভাবে সংরক্ষণ করে আসছিল। তবে এবার প্রথমবারের মতো কিছু পারমাণবিক অস্ত্রকে কার্যকর মোতায়েন অবস্থায় রাখা হয়েছে, যা দেশটির কয়েক দশকের নীতির বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এসআইপিআরআইর তথ্যমতে, নতুন করে মোতায়েন করা ১২টি ওয়ারহেড হয় তাদের বহনকারী ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে অথবা সক্রিয় সামরিক ঘাঁটিতে স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো এবং নতুন পারমাণবিক সাবমেরিনে মোতায়েনযোগ্য অস্ত্রও রয়েছে। বিষয়টি ভারতের পারমাণবিক সক্ষমতার উচ্চ সতর্কাবস্থার ইঙ্গিত দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংস্থাটির মতে, গত বছর ভারত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী পারমাণবিক সাবমেরিনে সীমিত সংখ্যক ওয়ারহেড মোতায়েন করে প্রতিরোধমূলক টহল পরিচালনা করেছে। একই সঙ্গে দেশটির মোট পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারও সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতের মোট পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা প্রায় ১৯০টিতে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই অস্ত্রগুলো বিমান, স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক সাবমেরিনভিত্তিক ত্রিমাত্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষেপণাস্ত্রকে ক্যানিস্টারে সংরক্ষণ এবং সমুদ্রভিত্তিক প্রতিরোধমূলক টহল বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারত শান্তিকালেও কিছু ওয়ারহেডকে সরাসরি লঞ্চারের সঙ্গে যুক্ত রাখার দিকে অগ্রসর হতে পারে।
তবে ভারত এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তার ‘আগে ব্যবহার নয়’ (No First Use) নীতি বজায় রেখেছে। এই নীতির আওতায় দেশটি প্রথমে পারমাণবিক হামলা চালাবে না এবং শুধুমাত্র ভারতের ভূখণ্ড বা ভারতীয় বাহিনীর ওপর পারমাণবিক হামলার জবাব হিসেবেই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ভারতের এই পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।