ইপেপার / প্রিন্ট
পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী গ্রামে গৃহবধূ পাপিয়া খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় প্রবাসী স্বামী হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে পরকীয়া ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা।
রোববার (২৮ জুন) দুপুরে পাবনা শহরের আব্দুল হামিদ রোডে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শতাধিক মানুষ অংশ নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে হুমায়ুন কবীর বিভিন্ন নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন এবং প্রবাসে থেকে বিপুল অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে প্রভাব খাটিয়ে এসব বিষয় ধামাচাপা দিতেন। তারা আরও দাবি করেন, সম্প্রতি স্থানীয় এক কিশোরীর সঙ্গে সম্পর্কের জেরে তিনি স্ত্রীর ওপর নির্যাতন চালান এবং তাকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়, যাতে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপন করা যায়।
মানববন্ধনে নিহতের চাচা আব্দুল আজিজ অভিযোগ করেন, পাপিয়া দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার ছিলেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে এবং প্রকৃত ঘটনা আড়াল করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি দ্রুত হত্যা মামলা দায়ের ও অভিযুক্তের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
অন্যদিকে, এ ঘটনায় আইনগত অবস্থান নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে পুলিশ। পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাকে ঘিরে দুটি পক্ষ তৈরি হয়েছে—একদিকে নিহতের পরিবার হত্যা মামলা দাবি করছে, অন্যদিকে অভিযুক্তের পরিবার নির্দোষ দাবি করছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অভিযুক্তকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর প্রকৃত ঘটনা যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুন দুপুরে দোগাছী ইউনিয়নের নিজ বাড়ি থেকে পাপিয়া খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত হত্যা হলেও পুলিশ বলছে, তদন্ত ও ময়নাতদন্ত রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।