ইপেপার / প্রিন্ট
দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে খাসিয়ামারা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পাঁচ বছর পেরিয়ে গেছে, এখনো শেষ হয়নি নির্মাণকাজ। ফলে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের নুরপুর, আলীপুর, সুনাপুর, বৈঠাখাই ও হাসনবাহার গ্রামের হাজারো মানুষ প্রতিদিন রশি টেনে খেয়া নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে আলীপুর-টেংরাটিলা খেয়াঘাট দিয়ে এভাবেই চলাচল করছেন তারা। শুষ্ক মৌসুমে কোনোভাবে পারাপার সম্ভব হলেও বর্ষায় পাহাড়ি ঢলে নদীর স্রোত বেড়ে গেলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থী, নারী, শিশু, কর্মজীবী মানুষ ও অসুস্থ রোগীদের দুর্ভোগ তখন চরমে পৌঁছে।
দীর্ঘদিনের দাবির পর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) খাসিয়ামারা নদীর ওপর ৭৫ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করে। ২০২২ সালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। প্রায় ৪ কোটি ২৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুটি এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ না হওয়ায় সেই প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি।
আলীপুর গ্রামের বাসিন্দা রুমন মিয়া বলেন, সেতুটি চালু হলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ হবে, রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া যাবে এবং সাধারণ মানুষের সময় ও ভোগান্তি কমবে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ ধীরগতিতে চলায় তারা হতাশ। তার অভিযোগ, কখনো শ্রমিক কাজ করেন, আবার দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ থাকে।
স্থানীয় মোটরসাইকেলচালক বিল্লাল হুসেন জানান, নির্মাণকাজে দীর্ঘ বিরতি থাকায় মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বর্ষাকালে নদীতে পানি বাড়লে পারাপার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। তার দাবি, দ্রুত কাজ শেষ করে সেতুটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হোক।
খেয়া নৌকার মাঝি আম্বর আলী বলেন, গত কয়েক বছর ধরে সেতুর কাজ থেমে থেমে চলছে। দিনের পাশাপাশি গভীর রাতেও রোগী ও জরুরি প্রয়োজনে মানুষকে নদী পার করে দিতে হয়। তিনি মনে করেন, সেতুটি নির্মাণ শেষ হলে কয়েক গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন জানান, নির্মাণাধীন সেতুর অধিকাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে একটি স্লাব এবং দুই পাশের অ্যাপ্রোচের এক পাশের কাজ বাকি রয়েছে। ঠিকাদারকে দ্রুত অবশিষ্ট কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ পর্যায়ে ঠিকাদার পরিবর্তন করলে প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও বিলম্ব হবে। তাই বর্তমান ঠিকাদারের মাধ্যমেই দ্রুত কাজ শেষ করে সেতুটি জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার চেষ্টা চলছে।