ইপেপার / প্রিন্ট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালীর চারটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ২০ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০ জন নির্ধারিত ভোটসংখ্যা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে জামানত হারিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট আসনে প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের কমপক্ষে এক-অষ্টমাংশ ভোট পেতে ব্যর্থ হলে তার জামানত বাবদ জমা দেওয়া ৫০ হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত হয়। বিধান অনুযায়ী পটুয়াখালীর চারটি আসনে মোট ১০ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, পটুয়াখালী-১ (পটুয়াখালী সদর-মির্জাগঞ্জ-দুমকি) আসনে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন, পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে ৫ জনের মধ্যে ৩ জন, পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে ৫ জনের মধ্যে ২ জন এবং পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে ৪ জনের মধ্যে ২ জন প্রার্থী প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় নিজেদের জামানত হারান।
পটুয়াখালী-১ আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ২৯৪টি। জামানত রক্ষা করতে প্রয়োজন ছিল প্রায় ৩২ হাজার ৪১২ ভোট। কিন্তু এ আসনে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের আ. মন্নান হাওলাদার (১,০৫৫ ভোট), জাসদের গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট মনোনীত মোটরগাড়ি প্রতীকের গৌতম চন্দ্র শীল (১,৩৩৪ ভোট) এবং গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের শহিদুল ইসলাম ফাহিম (৩৪৭ ভোট) পেয়েছেন। প্রয়োজনীয় ভোটসংখ্যা অর্জন করতে না পেরে নিজেদের জামানত হারিয়েছেন তারা।
পটুয়াখালী-২ আসনে মোট বৈধ ভোট ছিল ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬০৭টি। জামানত অক্ষুণ্ন রাখতে প্রয়োজন ছিল প্রায় ২৩ হাজার ৫৭৬ ভোট। এ আসনে বিজয়ী ও নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়া অন্য তিন প্রার্থী নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করতে ব্যর্থ হন। এখানে জামানত হারিয়েছেন—হাতপাখা প্রতীকের মালেক হোসেন (১৪,৪১৪ ভোট), এবি পার্টির ঈগল প্রতীকের মো. রুহুল আমিন (৪১০ ভোট) এবং গণঅধিকার পরিষদের হাবিবুর রহমান (৩৫৩ ভোট)।
পটুয়াখালী-৩ আসনে মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৩৭ হাজার ৯৬১টি। জামানত টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন ছিল প্রায় ২৯ হাজার ৭৪৬ ভোট। এ আসনে জাহাজ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম ফজলুল হক (৯৭৮ ভোট) এবং জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মুহাম্মদ শাহআলম (১৬,২৫৫ ভোট) জামানত হারান।
পটুয়াখালী-৪ আসনে মোট বৈধ ভোট ছিল ২ লাখ ৯ হাজার ৩২৭টি। জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল প্রায় ২৬ হাজার ১৬৬ ভোট। এ আসনে খেলাফত মজলিসের দেয়ালঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী ডা. জহির উদ্দিন আহমেদ (১৪,৯৮৫ ভোট) এবং গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের মো. রবিউল হাসান (২০২ ভোট) প্রয়োজনীয় ভোটসংখ্যা অর্জনে ব্যর্থ হন। ফলে তারা নিজেদের জামানত হারিয়েছেন।
তবে এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন নির্বাচনী প্রচারণার মাঝ সময়ে বিভিন্ন দলের প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালীর চারটি আসনের মধ্যে পটুয়াখালী-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ আলতাফ হোসেন চৌধুরী, পটুয়াখালী-২ আসনে জামায়াত সমর্থিত ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর এবং পটুয়াখালী-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবিএম মোশারফ হোসেন বিজয়ী হয়েছেন।