1. numanashulianews@gmail.com : kazi sarmin islam : kazi sarmin islam
  2. admin@newstvbangla.com : newstvbangla : Md Didar
দালালি করে ক্ষমতায় আসা যাবেনা "প্রধানমন্ত্রী" - NEWSTVBANGLA
বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়: প্রধানমন্ত্রী দেশে মামলাজট কমানোর লক্ষ্যে বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি: আইনমন্ত্রী সত্য তথ্য দিয়ে অপতথ্য ও ভুল তথ্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চান : তথ্য প্রতিমন্ত্রী গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯,৪১০ জনে ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ৭৩ জনের শরীরে চিত্রনায়িকা পরীমণি নামে দায়ের করা মাদক মামলা বাতিল প্রশ্নে জারি করা রুল পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন হাইকোর্ট ঝিনাইদহে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয় ভোক্তা আইনে সাড়ে ১১ হাজার প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বাজারে যে পণ্যটা ওঠে সেটা অবিকৃত থাকছে না: প্রতিমন্ত্রী কেজিতে ২০ টাকা বাড়িয়ে সরকারি মিলের চিনি

দালালি করে ক্ষমতায় আসা যাবেনা “প্রধানমন্ত্রী”

প্রতিনিধি

প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, বিদেশিদের কাছে তদবির করে ক্ষমতায় যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। সামরিক শাসকদের গড়া দলগুলোকে বয়কট করার এবং তাদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সচেতন থাকারও আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মনে হচ্ছে বাইরে থেকে কেউ এসে একবারে দোলনায় করে তাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে, সে স্বপ্নে তারা বিভোর। হয়তো এক সময় সেটা করতে পেরেছে দালালি করে। এখন আর সেই দালালি করে ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ নেই, পারবে না।’
তিনি আজ বিকেলে ‘মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৩’ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির ভাষণে এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বাংলাদেশের উন্নয়নের দিকেই নজর দিয়েছি। বাংলাদেশের উন্নয়ন করবার জন্যই কাজ করেছি। তারা যা করেছে (বিএনপি) তার কিছুই তাদের সঙ্গে করতে যাইনি। তারপরেও দেখি দেশে বিদেশে গিয়ে হাহাকার করে বেড়ায়, কেঁদে বেড়ায়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন অনেক সচেতন এবং দেশের জনগণ নিজের দেশ সম্পর্কে এখন অনেক জানে। ইতিহাস সম্পর্কে জানে এবং আমাদের লক্ষ্য কি সেটাও তারা জানে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন তারা (বিএনপি) আন্দোলন করবে, সরকার উৎখাত করবে, অনেক কথাই বলে যাচ্ছে। অনেক আয়োজনও করেছে। আর আমাদের দেশে কিছু মানুষ থাকে তারা ‘অসময়ে নীরব এবং সময়ে সরব’ হয়ে ওঠে।
তিনি বলেন, ১০ ডিসেম্বর নিয়ে বিএনপি অনেক হম্বিতম্বি করেছে, মিটিং মিছিল করেছে যাতে তাঁর সরকার বাধা দেয়নি কিন্তু বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ তখন একটা মিছিল, মিটিংও করতে পারতো না, সবজায়গায় বাধা এবং নেতা-কর্মীদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন করা হয়েছে। মেয়েদের রাস্তায় ফেলে পিটিয়েছে, কাপড়-চোপড় পর্যন্ত ছিঁড়ে ফেলেছে। একদিকে ছাত্রদল আর একদিকে পুলিশ বাহিনীর সে অকথ্য নির্যাতনের কথা ভুলবার নয় উল্লেখ করে তারপরেও তাঁর দল কোন ধরনের প্রতিশোধ নিতে যায়নি বলেও উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ এর নির্বাচনের পর আরো টানা দু’বার আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে জনগণের জন্য যে কাজ করেছে সেটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। কেননা আজকে বাংলাদেশের চেহারা পাল্টে গেছে। শুধু রাজধানী ঢাকা নয় সমগ্র দেশের উন্নয়নই তাঁর সরকার করেছে। ভূমিহীন-গৃহহীনকে ঘর করে দেয়ার ও তাদের জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা, খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ মৌলিক চাহিদাগুলো নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার মাধ্যমে সামগ্রিক আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়েছে এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারের ঘোষণা অনুযায়ী রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা এনে দিয়েছে। আর সেটাই তারা (বিএনপি) ধ্বংস করতে চাইছে।
সভার শুরুতে ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, জাতির পিতা এবং বঙ্গমাতাসহ ’৭৫ এর ১৫ আগস্টের সকল শহীদ, জাতীয় চারনেতা এবং ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলাসহ প্রগতিশীল গণআন্দোলনের সকল শহিদ স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

বিএনপি-জামায়াত জনগণের টাকা লুট করার মাধ্যমে নিজেদের আখের গোছাতে ক্ষমতায় আসে, তারা জনগণকে নিয়ে চিন্তাও করে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার খালেদা, তারেক ও কোকোর বিদেশে পাচার করা টাকার মধ্যে ৪০ কোটি টাকা ফিরিয়ে আনতে পেরেছে এবং তাদের অনেকের টাকাই বিশে^র বিভিন্ন দেশে ‘ফ্রিজ’ করা হয়েছে যা আনার প্রচেষ্টা সরকার চালিয়ে যাচ্ছে।
যারা নিজের দেশের টাকা অন্যের হাতে তুলে দেয়, নিজের দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেয় আর নিজের দেশের মানুষকে পুড়িয়ে মারে তারা আবার ক্ষমতায় যাবার কিভাবে স্বপ্ন দেখে সে প্রশ্ন উত্থাপন করেন তিনি।
তিনি বলেন, একটার পর একটা ঝামেলা এসেছে, একদিকে বিএনপি-জামাতের অগ্নিসন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের মত মনুষ্য সৃষ্ট দুর্যোগ অন্যদিকে করোনাসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ সফলতার সঙ্গে তাঁর সরকার মোকাবিলা করেই দেশের মানুষের আর্থসামাজিক এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটিয়েছে। বিনা পয়সায় ভ্যাকসিন দিয়েছে যেটা বিশে^র অনেক উন্নত দেশও পারেনি। এখন বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে এবং আওয়ামী লীগই জনগণের ভোটের অধিকারও নিশ্চিত করেছে।
এ সময় অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারির হাতে বিএনপি’র জন্ম যে ক্ষমতা দখলকে উচ্চ আদালতই অবৈধ ঘোষণা করেছে, দেশবাসী যেন সেটাকে অবৈধ বলেই প্রত্যাখ্যান করে- দেশবাসীর কাছে সে আবেদনও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ওরা ক্ষমতায় থাকতে দেশটাকে খুবলে খুবলে খেয়েছে। সংবিধানকে কলুষিত করেছে, মুক্তিযদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি এবং স্বাধীনতার চেতনাকে ধ্বংসসহ একটি জাতিকে ধ্বংস করার সবকিছুই করে গেছে। সেখান থেকে গত ১৪ বছরে বাংলাদেশকে পরিবর্তন করে তাঁর সরকার বিশ^ দরবারে একটি মর্যাদার আসন এনে দিতে সক্ষম হয়েছে। এখন বাংলাদেশকে সকলে ‘উন্নয়নের রোল মডেল’ মনে করে, সেটাকে ধরে রেখেই তিনি দেশকে আরো সামনে এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এ সময় তাঁর সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড জনগণের কাছে পৌঁছানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সেটা সম্ভব বলে ভোটের যেমন সমস্যা হবে না তেমনি ক্ষমতাও কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।

জাতির পিতার কন্যা ভাষা আন্দোলনে জাতির পিতা অবদানকে ১৯৪৮ সাল থেকে পর্যায়ক্রমিকভাবে সংক্ষিপ্ত পরিসরে তুলে ধরেন এবং কারাগারে থেকেও ১৯৫২’র একুশে ফেব্রুয়ারির আন্দোলন সংগঠনে কিভাবে তিনি ভূমিকা রেখেছেন তার উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট ও অসমাপ্ত আত্মজীবনী পুস্তক আকারে প্রকাশিত না হলে ভাষা অন্দোলনের ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলা হতো। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর সব ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে।
এমনকি স্বাধীনতার ইতিহাসও বিকৃত করা হয়েছিল। একটা জাতির স্বাধীনতা, একজন বাঁশি ফুকলো আর হয়ে গেলো, এভাবে তো হয় না, বলেন তিনি।
শুধু তাই নয় ১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেই প্রথম ২১ ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করে। সেই সময় শহীদ মিনার তৈরির জন্য প্রকল্প ও গ্রহণ করা হয়।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুই ছাত্রলীগ, তমুদ্দিন মজলিশ ও অন্যান্যদের নিয়ে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন এবং ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। কারাগারে ছাত্রনেতারা হাসপাতালের তাঁর সঙ্গে দেখা করলে বঙ্গবন্ধু ছাত্রনেতাদের ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি হরতাল ডাকার নির্দেশ দেন।
শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে ইংরেজি অ্যাকসেন্টে বাংলা বলার সমালোচনা করেন এবং বলেন, মাতৃভাষার আসল ধ্বনিটা পরিবর্তন করে বিজাতীয় ভাষার ধ্বনির সঙ্গে মিলিয়ে বাংলাটাকে ইংরেজি অ্যাকসেন্টে (উচ্চারণে) বলা হচ্ছে, এটা কেন? নিজের এলাকার বা নিজের ভাষাটা কেন বলবো না? যে জাতি ভাষার জন্য রক্ত দেয়, তাদের এই দৈন্যতা ঠিক নয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2015
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: রায়তাহোস্ট