ইপেপার / প্রিন্ট
ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জন্য পৃথকভাবে একজন করে পুলিশ কমিশনার নিয়োগের দাবিতে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। রাজধানীর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, ভৌগোলিক বিস্তৃতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় এই নিয়োগকে সময়োপযোগী ও আইনগতভাবে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) ন্যাশনাল ল’ ইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জুলফিকার আলী জুনু এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি)সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, ঢাকা মহানগর বর্তমানে দুটি স্বতন্ত্র সিটি করপোরেশনে বিভক্ত—ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। প্রতিটি সিটি করপোরেশনের রয়েছে আলাদা ভৌগোলিক সীমানা, বিপুল জনসংখ্যা, স্বতন্ত্র প্রশাসনিক কাঠামো এবং নাগরিক সেবার পৃথক দায়িত্ব। অথচ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে এখনো একক কাঠামোর অধীনে পুলিশ প্রশাসন পরিচালিত হচ্ছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখ করা হয়, প্রচলিত আইন, প্রশাসনিক ন্যায়সংগততা ও সুশাসনের নীতিমালা অনুযায়ী একটি সিটি করপোরেশনের জন্য একজন পুলিশ কমিশনার থাকা যুক্তিসংগত ও প্রয়োজনীয়। বিশেষ করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ আইন, ১৯৭৬, সংবিধানের ২১ ও ৫৫ অনুচ্ছেদ এবং নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সাংবিধানিক দায়বদ্ধতার আলোকে পৃথক কমিশনার নিয়োগ আইনসঙ্গত।
বর্তমানে পৃথক পুলিশ কমিশনার না থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর তদারকি ব্যাহত হচ্ছে বলে নোটিশে দাবি করা হয়। এর ফলে প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে, নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে এবং দ্রুত পুলিশি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে—যা সংবিধান ও আইনের শাসনের পরিপন্থি।
নোটিশে স্পষ্টভাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জন্য একজন পুলিশ কমিশনার এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জন্য পৃথক একজন পুলিশ কমিশনার নিয়োগে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
লিগ্যাল নোটিশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।