1. numanashulianews@gmail.com : kazi sarmin islam : kazi sarmin islam
  2. yoyorabby11@gmail.com : Munna Islam : Munna Islam
  3. admin@newstvbangla.com : newstvbangla : Md Didar
ঝিনাই নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে টাঙ্গাইল শহর রক্ষাবাঁধ - NEWSTVBANGLA
রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ০৩:২৭ অপরাহ্ন

ঝিনাই নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে টাঙ্গাইল শহর রক্ষাবাঁধ

প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০১৮ইং

টাঙ্গাইলে ঝিনাই নদীতে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়ের ৮ নং ওয়ার্ডের রানা গাছার এলাকায় এ ভাঙন শুরু হয়। এতে হুমকির মুখে পড়েছে শহর রক্ষাবাঁধ, কবরস্থান, রাস্তাঘাট ও বসতভিটা। যেকোনো সময় রক্ষাবাঁধ ভেঙে শহরে পানি প্রবেশ করতে পারে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুকনো মৌসুমে বাংলা ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করায় বন্যার সময় ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়। বাংলা ড্রেজারের বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ জেলা প্রশাসনকেও একাধিকবার অভিযোগ করলে তারা বিষয়টি আমলে নেননি। যার ফলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রামাগাছা এলাকায় বসবাসকারীদের।

ইতোমধ্যে রামা গাছা এলাকার পুরাতন কবরস্থানটি ভেঙে বিলীন হলেও কয়েকদিনের মধ্যে নতুন কবরস্থান ভাঙতে পারে এমনটা আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। কয়েকটি বসতভিটাও হুমকির মধ্যে রয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের রামাগাছা এলাকার রাস্তাটি (শহর রক্ষা বাঁধ) আংশিক ভেঙে গিয়ে হুমকির মুখে রয়েছে। তুলা মিয়া ও শাহাদৎ হোসেনের ভিটাবাড়ীর আংশিক ভেঙে নদীতে বিলীন হয়েছে। বাঁশঝারগুলো ভেঙে নদীতে পড়ে আছে। পুরাতন কবরস্থানটি ভেঙে গেছে। যেকোনো সময় নতুন কবরস্থানটিও ভাঙতে পারে।

রামা গাছা এলাকার মোলায়েম তালুকদার বলেন, ‘আমাদের এলাকার রাস্তাটি টাঙ্গাইল শহর রক্ষাবাঁধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে। রাস্তাটির আংশিক ভেঙে পড়েছে। বাকি অংশতেও ফাটল ধরেছে। যে কোনো সময় রাস্তাটি ভাঙতে পারে। তিনি আরো বলেন, আমাদের এলাকার পুরাতন কবরস্থানটিও ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। যে কোন সময় নতুন কবরস্থানটিও ভাঙতে পারে।’

বাদল মিয়া বলেন, ‘আমার বাবা দুই বছর আগে মারা গিয়েছেন। নদী ভাঙনের ফলে কবরস্থানও  ভাঙতে থাকে। বাবাকে দাফন করার সাত মাস পড়ে কবর থেকে তাকে উঠিয়ে রাস্তার পাশে এনে তার লাশ পুনরায় দাফন করা হয়েছে। এই নদী ভাঙন রোধে আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

রানা মিয়া বলেন, ‘শুকনো মৌসুমে নদী থেকে বাংলা ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের ফলে প্রতিবছরই আমাদের ফসলি জমিসহ ভিটেবাড়ী বিলীন হয়ে যায় নদীতে। বাংলা ড্রেজারের বিষয়টি প্রশাসনকে একাধিকবার জানালেও তারা কোন প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।’

তুলা মিয়া বলেন, ‘আমার ১৮০ শতাংশ পৈত্রিক সম্পত্তি ছিলো। নদীর পাড় ভাঙতে ভাঙতে আমার এখন এই ২০ শতাংশ বাড়ি ছাড়া সব সম্পত্তি নদীতে বিলীন হয়েছে। আমার বাড়ির আংশিক ভিটা নদীতে ভেঙে পড়েছে। আমি পরিবারের সকল সদস্য নিয়ে হুমকির মুখে জীবন-যাপন করছি। যেকোন সময় আমার বাড়িটাও নদীতে বিলীন হতে পারে।’

আসলাম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের সমাজের পুরাতন ১৮ শতাংশের কবরস্থানটি ভেঙে নদীতে বিলীন হয়েছে। যেকোনো সময় নতুন কবরস্থানটিও পারে। এই শহর রক্ষা বাঁধটি ভেঙে গেলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শহরে পানি প্রবেশ করবে। ফসলি জমিসহ বসতভিটাও প্লাবিত হবে।’

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিনাত জাহান বলেন, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বিষয়টি আরো ভালোভাবে অবগত হয়ে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2015
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: রায়তাহোস্ট