ইপেপার / প্রিন্ট
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জাহাজ নির্মাণ খাতের ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলে বিশেষ ছাড় দিয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন প্রতিষ্ঠানগুলো সহজ শর্তে ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ পাবেন, যার মধ্যে থাকবে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ড এবং সর্বোচ্চ ১০ বছরে ঋণ পরিশোধের সুবিধা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ইউরোপে সামরিক অস্থিরতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে জাহাজ নির্মাণ শিল্পের নগদ প্রবাহে বড় চাপ তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বিশেষ পুনঃতফসিল সুবিধা দেওয়ার।
সার্কুলারের মূল শর্তাবলি:
২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত শ্রেণিকৃত ঋণ (খেলাপি ঋণ) পুনঃতফসিল করতে মোট ঋণের ৩ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিতে হবে। এর মধ্যে ১.৫ শতাংশ আবেদনকালে এবং বাকি ১.৫ শতাংশ পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।
পূর্ববর্তী পুনঃতফসিল ঋণ পুনর্গঠন করতে চাইলে মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে সর্বোচ্চ আরও দুই বছরের সময় বাড়ানো যাবে।
গ্রেস পিরিয়ড চলাকালে মূল ঋণের ওপর ধার্য সুদ মাসিক বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পরিশোধ করতে হবে, আগের বকেয়া সুদ গ্রেস পিরিয়ড শেষে সুদবিহীন কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ থাকবে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠিত ঋণ থাকলেও প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন ঋণ নিতে পারবে, তবে জালিয়াতি, প্রতারণা বা ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের ক্ষেত্রে সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, আবেদন পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ঋণ পুনঃতফসিল সম্পন্ন করবে এবং বিশেষ পরিদর্শনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে যে প্রতিষ্ঠানটি সত্যিই নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বৈশ্বিক বাজারে রপ্তানি সম্ভাবনা এবং দেশীয় শিল্পের গুরুত্ব বিবেচনায়, এই পুনঃতফসিল সুবিধা জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে সচল রাখার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর ঋণ আদায় নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে।