ইপেপার / প্রিন্ট
রাজধানীর ফুটপাত ও সড়ক সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন ‘ঢাকা বাঁচাও, হকার হটাও’ আন্দোলনের উদ্যোক্তা সোহানী শিফা। গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পরিচালনার সময় হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুললেও তিনি হামলাকারীদের শাস্তি নয়, বরং নগরবাসীর চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার (১০ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শরিফুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সোহানী শিফা জানান, গত ৯ মে থেকে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘ঢাকা বাঁচাও, হকার হটাও’ শিরোনামে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখল, পথচারীদের ভোগান্তি, নারী হয়রানি এবং ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে নগরজীবনের সংকট তুলে ধরতেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
তিনি বলেন, গাউছিয়াসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখল হয়ে থাকায় সাধারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না। সিটি কর্পোরেশনের হকার উচ্ছেদ উদ্যোগে শুরুতে আশাবাদী হলেও পরে ফুটপাতে দাগ কেটে দোকান বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনার বিরোধিতা করেন। এর প্রতিবাদেই তিনি অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান এবং ধীরে ধীরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমর্থন পান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গত ১৩ মে কয়েকজন সহকর্মীকে নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তিনি গ্রামাঞ্চলে শ্রমিক সংকট, কৃষি খাতে কর্মীর ঘাটতি এবং জীবিকার সন্ধানে মানুষের ঢাকামুখী হওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, এ ধারা অব্যাহত থাকলে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সোহানী শিফা আরও বলেন, আন্দোলনের অংশ হিসেবে তিনি গণস্বাক্ষর কর্মসূচি চালু করেন এবং তিন হাজারের বেশি মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ কর্মসূচির প্রচার বাড়ার পর কিছু ব্যক্তি এতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে এবং গণস্বাক্ষর সংগ্রহের জন্য অনুমতির প্রয়োজনীয়তার কথা বলে চাপ সৃষ্টি করে।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ৭ জুন ঢাকার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে তিনি মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তবে এ ঘটনায় তিনি কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা চান না বলে জানান।
দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সোহানী শিফা বলেন, তার ব্যক্তিগত বিচার প্রয়োজন নেই; বরং রাজধানীর ফুটপাত ও সড়ক যেন সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ ও উন্মুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, জনসংখ্যার চাপ ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে অর্থনীতি ও নগর ব্যবস্থাপনা আরও বড় সংকটে পড়তে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি কয়েকটি সুপারিশও তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—ঢাকার বাইরে রিকশা ও অটোরিকশাচালকদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জেলা পর্যায়ে হকার্স মার্কেট নির্মাণ, স্থানীয় পর্যায়ে শ্রমের সুষম বণ্টন, কাজের প্রয়োজনে ঢাকায় আগতদের জন্য নিবন্ধন বা ছাড়পত্র ব্যবস্থা, কৃষকের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি কেনার উদ্যোগ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য কারিগরি শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ।
তার মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে বেকারত্ব কমবে, কৃষি খাত আরও শক্তিশালী হবে এবং রাজধানী ঢাকার ওপর অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপও অনেকাংশে হ্রাস পাবে।