রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল ধাপে ধাপে চালুর পরিকল্পনা তুলে ধরেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক জানিয়েছেন, চুক্তি সম্পন্ন, টেস্ট রান এবং সীমিত পরিসরে চালুর মধ্য দিয়ে টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রমে আসবে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম বাংলাদেশ (এটিজেএফবি)-এর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব তথ্য জানান।
চেয়ারম্যান বলেন, টার্মিনাল পরিচালনার জন্য জাপানের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়া চলছে এবং তা দেশের স্বার্থ পুরোপুরি সংরক্ষণ করেই করা হবে। ইতোমধ্যে একাধিক দফা আলোচনা হলেও কিছু বিষয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে। তবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই চুক্তি চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে এগোবে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নেগোসিয়েশন শেষ হলে চুক্তি সই হতে প্রায় তিন মাস সময় লাগবে। এরপর ৬ মাস থেকে এক বছরের একটি পরীক্ষামূলক (টেস্ট রান) পরিচালনা করা হবে। টেস্ট রানের প্রায় ছয় মাস পর সীমিত পরিসরে তৃতীয় টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকার ১৬ ডিসেম্বরকে একটি লক্ষ্য সময়সীমা হিসেবে নির্ধারণ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেই সময়সীমা মাথায় রেখেই কাজ এগিয়ে চলছে। তবে তাড়াহুড়ো করে বিমানবন্দর কার্যক্রম স্থানান্তর ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। আন্তর্জাতিক গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, দ্রুত শিফটিংয়ের ক্ষেত্রে ব্যর্থতার হার উল্লেখযোগ্য।
দীর্ঘদিন টার্মিনালটি ব্যবহার না হওয়ায় সেখানে স্থাপিত যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে উদ্বেগের বিষয়েও তিনি কথা বলেন। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করছে এবং ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তা চালিয়ে যেতে পারবে বলে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে ২০২৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্তও সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস রয়েছে।
তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবস্থায় প্রতিযোগিতা বাড়াতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর পাশাপাশি একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান বেবিচক চেয়ারম্যান। এতে সেবার মান উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক মান যাচাইয়ের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও)-এর অডিট প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। সর্বশেষ অডিট ২০১৮ সালে হলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে পরবর্তী অডিট বিলম্বিত হয়েছে। চলতি বছরের অক্টোবরে একটি টিম আসার কথা রয়েছে এবং পূর্ণাঙ্গ অডিট ২০২৭ সালের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে।
এদিকে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশনা পাওয়ার কথাও জানান তিনি। পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে সব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোলে তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে দেশের বিমান চলাচল ব্যবস্থায় একটি নতুন যুগের সূচনা হবে।