ইপেপার / প্রিন্ট
চট্টগ্রাম শহরের সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসজুড়ে চরম উত্তেজনা ও অচলাবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কলেজ প্রশাসন সব ধরনের ক্লাস ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা স্থগিত করেছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় একটি গ্রাফিতি বিকৃতিকে কেন্দ্র করে, যা দ্রুতই দুই পক্ষের মধ্যে সহিংস সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে। তবে পরবর্তীতে আশপাশের এলাকায় নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে বহিরাগতদেরও সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন বলে জানা গেছে। গুরুতর আহতদের মধ্যে একজনের পায়ের গুরুতর ক্ষতির ঘটনাও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ ক্যাম্পাস ও আশপাশ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং সন্দেহভাজন কয়েকজনকে শনাক্ত করার কাজ চলছে।
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে, যা সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।
এদিকে সংঘর্ষের জেরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিভিন্ন সংগঠন পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করেছে এবং বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ের আলোচনায় উঠে এসেছে, এমনকি সংসদেও তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সহিংসতা শিক্ষার পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং দ্রুত স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।