ইপেপার / প্রিন্ট
ফিলিস্তিনের গাজা সিটিতে আবারও নেমে এলো শোকের ছায়া। ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন অভিজ্ঞ সাংবাদিক Mohamed Weshah, যিনি ২০১৮ সাল থেকে Al Jazeera-এর হয়ে চলমান সংঘাতের খবর তুলে ধরছিলেন। বুধবার পশ্চিম গাজার আল-রশিদ সড়কে একটি গাড়িতে থাকা অবস্থায় এই হামলার শিকার হন তিনি। হামলার পর গাড়িটি সম্পূর্ণরূপে আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়ে যায়।
এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ক। এক বিবৃতিতে তারা অভিযোগ করে, এটি ছিল সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে চালানো একটি পরিকল্পিত হামলা। তাদের ভাষায়, “এটি শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর আক্রমণ নয়, বরং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত এবং যুদ্ধের বাস্তবতা তুলে ধরা কণ্ঠকে স্তব্ধ করার চেষ্টা।”
গাজা থেকে রিপোর্ট করা আরেক সাংবাদিক Ibrahim Al-Khalili জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও এ ধরনের হামলা প্রমাণ করে যে পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত অস্থির এবং বিপজ্জনক। তার মতে, চলমান সামরিক অভিযান বাস্তবতায় কোনো স্থিতিশীলতা আনতে পারেনি, বরং সহিংসতা আরও বাড়ছে।
সাংবাদিকদের জন্য এই সংঘাত ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৬২ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার মিডিয়া অফিস। তাদের অভিযোগ, ইসরায়েলি বাহিনী পরিকল্পিতভাবে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের টার্গেট করছে, যাতে আন্তর্জাতিক মহলে সত্য তুলে ধরা না যায়।
এদিকে, যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় সহিংসতা থামেনি। গাজার মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর প্রায় ২,০০০টিরও বেশি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিদিনই নতুন করে হামলা, ধ্বংস এবং হতাহতের খবর আসছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ৭২,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ১,৭১,০০০ মানুষ। এমনকি যুদ্ধবিরতির পরও নতুন করে ৭৩৩ জন নিহত এবং ২,০৩৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এই পরিস্থিতিতে মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে যুদ্ধক্ষেত্রের প্রকৃত চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
গাজায় প্রতিটি দিন এখন যেন বেঁচে থাকার লড়াই। আর সেই লড়াইয়ের মাঝেই জীবন দিচ্ছেন তারা, যারা সত্যকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।