পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে গরম মসলার বেচাকেনা বাড়তে শুরু করেছে। বাজারজুড়ে এলাচ, জিরা, দারুচিনি, লবঙ্গ, গোলমরিচ ও শুকনা মরিচের মজুত থাকলেও আগের বছরের মতো ক্রেতার ভিড় নেই। ফলে উৎসবমুখর সময়েও ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তির বদলে বাড়ছে উদ্বেগ।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, মরিচের দাম বাড়লেও পাইকারি বাজারে কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা নেই। পাশাপাশি পণ্যের দামে অস্বাভাবিক ওঠানামা, সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান এবং অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতার কারণে বৈধ ব্যবসায়ীরা চাপে পড়েছেন। তাদের অভিযোগ, ব্যাংকে এলসি খুলে শুল্ক-কর পরিশোধ করে পণ্য আনলেও অবৈধ পথে আসা মসলা কম দামে বাজারে বিক্রি হওয়ায় তারা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এলাচ, দারুচিনি, জিরা, লবঙ্গ, গোলমরিচ, আদা ও রসুন আমদানি হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকারি হিসাবের বাইরেও বিপুল পরিমাণ মসলা সীমান্ত দিয়ে ঢুকছে, যা বাজারে প্রভাব ফেলছে।
গত এক সপ্তাহে বেশ কয়েকটি মসলার দাম কমেছে। ভারতীয় জিরার কেজি ৫৫০ টাকা থেকে কমে ৫৩০ টাকায় নেমেছে। একইভাবে দারুচিনি, লবঙ্গ, এলাচ, মিষ্টি জিরা ও জায়ফলের দামও কমেছে। তবে শুকনা মরিচের বাজারে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। দুই-তিন মাস আগে ভারতের শুকনা মরিচ ৩৬০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৪২৫ টাকায় পৌঁছেছে।
এদিকে বাজারে ভেজাল মসলা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভোক্তা অধিকারের অভিযানে জিরার সঙ্গে অন্য বীজ মেশানোর অভিযোগ ধরা পড়েছে। এ কারণে অনেক ক্রেতা এখন প্যাকেটজাত গুঁড়ো মসলার বদলে গোটা মসলা কিনে বাসায় গুঁড়ো করার দিকে ঝুঁকছেন।
ব্যবসায়ীদের মতে, ঈদের আগে বাজার স্থিতিশীল রাখতে হলে সীমান্তে চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ, বৈধ আমদানিতে সহায়তা এবং বাজারে কার্যকর নজরদারি বাড়ানো জরুরি।