ইপেপার / প্রিন্ট
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীর এলাকায় নতুন করে আরও ১৩টি বসতি স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েল। এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব দেশটির নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে। তবে এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা।
শুক্রবার (৩ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে নিউ আরব।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের মতে, নতুন বসতি স্থাপনের এই উদ্যোগ পশ্চিম তীরের ভূখণ্ডগত বিভাজন আরও বাড়াবে এবং অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমকে আরও বিচ্ছিন্ন করে তুলবে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ৭ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভা মধ্য পশ্চিম তীরের অন্যতম বৃহৎ বসতি এলাকা বিনিয়ামিন আঞ্চলিক পরিষদে নতুন বসতি নির্মাণের অনুমোদন দেয়। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই প্রকল্পের প্রথম ধাপের কাজ শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে চার থেকে ছয়টি নতুন বসতি নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান কয়েকটি বসতি চৌকিকেও আনুষ্ঠানিক বৈধতা দেওয়া হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ১ বিলিয়ন শেকেল বিনিয়োগ করা হবে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট বসতিগুলো সরকারি অর্থায়ন এবং রাস্তা, বিদ্যুৎ ও পানির মতো মৌলিক অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি কয়েকটি পশুপালন কেন্দ্রও সরকারি স্বীকৃতি ও আর্থিক সুবিধা লাভ করবে।
প্যালেস্টাইনিয়ান সেন্টার ফর ইসরায়েলি স্টাডিজ (মাদার) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে ৮টি বসতি চৌকি স্থাপন করা হলেও ২০২৩ সালে তা বেড়ে ৩২টি, ২০২৪ সালে ৬২টি এবং ২০২৫ সালে ৮৬টিতে পৌঁছেছে।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, বসতি সম্প্রসারণে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নও দ্রুত বেড়েছে। ২০২৩ সালে বসতি চৌকিগুলোর জন্য ২৮ মিলিয়ন শেকেল এবং ২০২৪ সালে ৭৫ মিলিয়ন শেকেল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মোট ৭০টি বসতি চৌকিতে অর্থায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে দখল করা পূর্ব জেরুজালেমসহ অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন বসতিতে সাত লাখেরও বেশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছেন।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এসব বসতি অবৈধ। জাতিসংঘের একাধিক প্রস্তাব এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের মতেও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে এসব বসতির কোনো আইনি বৈধতা নেই।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, বসতি সম্প্রসারণের ধারাবাহিকতা দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক শান্তি সমাধানের সম্ভাবনাকে আরও দুর্বল করছে এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।