ইপেপার / প্রিন্ট
মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা গ্যাসবাহী একাধিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে বাংলাদেশে পৌঁছাতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে চারটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দর-এ পৌঁছেছে এবং আরও চারটি জাহাজ বাংলাদেশের উদ্দেশে পথে রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী আল জোরা নামের জাহাজটি ৬৩ হাজার ৩৮৩ মেট্রিক টন কার্গো নিয়ে ৩ মার্চ সকাল সাড়ে ৯টায় চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। একই বন্দর থেকে আসা আল জাসাসিয়া নামের আরেকটি জাহাজ ৬৩ হাজার ৭৫ মেট্রিক টন এলএনজি নিয়ে ৫ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টায় বন্দরে ভিড়ে।
এ ছাড়া কাতারের একই বন্দর থেকে ৬২ হাজার ৯৮৭ মেট্রিক টন এলএনজি নিয়ে আসা লুসাইল নামের জাহাজটি সোমবার (৯ মার্চ) চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। একই উৎস থেকে রওনা হওয়া আল গালায়েল নামের জাহাজটি ৫৭ হাজার ৬৬৫ মেট্রিক টন এলএনজি নিয়ে আগামী ১১ মার্চ এবং লেব্রেথাহ নামের আরেকটি জাহাজ ৬২ হাজার মেট্রিক টন এলএনজি নিয়ে ১৪ মার্চ বন্দরে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ওমানের সোহার বন্দর থেকে আসা জি-ওয়াইএমএন নামের একটি এলপিজি জাহাজ ১৯ হাজার ৩১৬ মেট্রিক টন কার্গো নিয়ে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোরে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। একই বন্দর থেকে ২২ হাজার ১৭২ মেট্রিক টন তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে এলপিজি সেভেন নামের আরেকটি জাহাজ রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে মেরিন ইথানল গ্যাস (এমইজি) বহনকারী বে-ইয়াসু নামের একটি জাহাজ ৫ হাজার ১৯ মেট্রিক টন কার্গো নিয়ে ৫ মার্চ সকালে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, মোট আটটি জাহাজ ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে চারটি বন্দরে পৌঁছেছে, একটি রোববার পৌঁছানোর কথা রয়েছে এবং বাকি তিনটি জাহাজ বাংলাদেশ অভিমুখে রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-এর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর হামলা এবং পরবর্তী উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালি ঘিরে পরিস্থিতি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে বাংলাদেশের বড় অংশের জ্বালানি আমদানির প্রধান রুট হওয়ায় পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।