1. numanashulianews@gmail.com : kazi sarmin islam : kazi sarmin islam
  2. islamkazisarmin@gmail.com : newstv : Md newstv
  3. anonnaa5481@gmail.com : newstv2232 :
  4. admin@newstvbangla.com : newstvbangla : Md Didar
স্ট্রবেরি চাষে দ্বিগুণ লাভ, মালচিং পদ্ধতিতে হাবিবের চমক - NEWSTVBANGLA
বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
0xde1d24f3 সার্কিট ব্রেকার নির্ধারণে ডিএসই-সিএসইকে পূর্ণ এখতিয়ার দিল বিএসইসি এনসিটি-সিসিটি ইজারা উদ্যোগ বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন-সমাবেশ সরকার-বিরোধী দলের সমন্বয়ে ঢাকা-১৫-এর উন্নয়নে কাজের অঙ্গীকার ৮ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে বজ্রবৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা, নিরাপদে থাকার পরামর্শ নন-ক্যাডার পদে ৬ প্রার্থীর মনোনয়ন চূড়ান্ত, কাগজপত্র না দেওয়ায় ১ জনের মনোনয়ন বাতিল পিএসসির বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা একক বা সমন্বিত ব্যবস্থায় আনার পরিকল্পনা সরকারের চট্টগ্রাম বন্দরে আধুনিক সেবার নতুন অধ্যায়: ৮০ কোটি টাকার ওএসএস ভবন চালু, নিরাপত্তা ও সেবায় বড় পরিবর্তন সংস্কার বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হলে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি বিরোধী দলের প্রেমের টানে ধর্মান্তর, ইসলাম ছেড়ে হিন্দু হলেন যুবক, প্রেমিকা গ্রেপ্তার

স্ট্রবেরি চাষে দ্বিগুণ লাভ, মালচিং পদ্ধতিতে হাবিবের চমক

প্রতিনিধি

২০২৩ সালে মাত্র ছয় শতক জমিতে আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে স্ট্রবেরির আবাদ শুরু করেন হাবিব মিয়া। প্রথম বছরেই দ্বিগুণ লাভ হওয়াতে কৃষিনির্ভর তরুণ এই উদ্যোক্তা ঝেড়ে ফেলেন হতাশা। আর পেছন ফিরে না তাকিয়ে নতুন উদ্যোমে শুরু করেন স্ট্রবেরির আবাদ। এখন তার আবাদি জমির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ শতকে। জমির সঙ্গে বেড়েছে লাভের পরিমাণও।

উদ্যোক্তা হাবিব মিয়া রংপুর নগরীর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খালিশাকুড়ি সবুজপাড়া এলাকার বাসিন্দা। ইউটিউব দেখে আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে স্ট্রবেরি চাষ করে রীতিমতো লাখপতি বনে গেছেন পেশায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার এই তরুণ।

মালচিং পদ্ধতিতে স্ট্রবেরি আবাদে সফল হয়ে চমক সৃষ্টি করেছেন হাবিব মিয়া। এলাকায় বেড়েছে তার আলাদা পরিচিতি। উৎপাদন খরচের দ্বিগুণ লাভ হওয়ায় হাবিবকে দেখে স্ট্রবেরি আবাদের দিকে আগ্রহ বাড়ছে অনেকেরই।

শীতপ্রধান অঞ্চলের এই ফল গাছে দেখতে এবং সরাসরি বাগান থেকে সংগ্রহ করতে জেলা শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেকেই ছুটে আসছেন হাবিবের বাগানে। এলাকার অন্য কৃষক ও তরুণরাও স্ট্রবেরি চাষে উৎসাহী হচ্ছেন।

শহর থেকে আসা এক ক্রেতা জানান, বাজারে যেসব স্ট্রবেরি পাওয়া যায়, তার অধিকাংশই বাসি ও পচা থাকে। কিন্তু সরাসরি বাগান থেকে নিজ হাতে তাজা স্ট্রবেরি তুলে নেয়ার আনন্দই আলাদা। এগুলো দেখতেও যেমন সুন্দর, খেতেও তেমন সুস্বাদু।

স্থানীয় কৃষক শফিকুল বলেন, আমি নিজের জমিতে ধান, গম, আলু, ফুলকপি, বেগুনসহ নানা সবজির আবাদ করি। গত দুই বছর ধরে পাশের জমিতে হাবিবের স্ট্রবেরি চাষ ও সফলতা দেখে আমি উদ্বুদ্ধ হয়েছি। এখন আমিও এটি চাষের উদ্যোগ নিচ্ছি।

উচ্চ মূল্যের ফল হওয়ায় স্ট্রবেরি গাছের বিশেষ যত্ন নেন উদ্যোক্তা হাবিবসহ তার বাগানের শ্রমিকরা। এই বাগান করে হাবিব নিজে সাবলম্বী হয়েছেন, সঙ্গে তার স্ট্রবেরির বাগানে এলাকার ১০ জন নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও হয়েছে।

কৃষি উদ্যোক্তা হাবিব মিয়া বলেন, ২০২৩ সালে মাত্র ৬ শতক জমিতে ৭০০ চারা রোপণ করে পরীক্ষামূলকভাবে স্ট্রবেরি চাষ শুরু করেন তিনি। সে সময় তার খরচ হয়েছিল ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার মতো। এর বিপরীতে উৎপাদিত স্ট্রবেরি বিক্রি করে তিনি ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা মুনাফা পান।

প্রাথমিক এই সফলতা দেখে হাবিব বিভিন্ন স্থান থেকে এবং ইউটিউবের মাধ্যমে আধুনিক চাষাবাদ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত ধারণা নেন। এরপর চলতি বছর তিনি ৪০ শতক জমিতে বাণিজ্যিকভাবে স্ট্রবেরির আবাদ করেছেন।

 

হাবিব আরও জানান, উৎপাদন খরচ দেড় লাখ টাকা হলেও ইতোমধ্যে তিন লাখ টাকার স্ট্রবেরি বিক্রি করেছেন তিনি। বর্তমানে তার বাগানের গাছে গাছে ঝুলছে কাঁচা-পাকা স্ট্রবেরি।

তরুণ এই উদ্যোক্তা জানান, সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত স্ট্রবেরির চারা লাগাতে হয়। এবং জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত ফল সংগ্রহ করা যায়। প্রতিটি গাছে ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রাম করে ফল পাওয়া যায়।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে হাবিব মিয়া বলেন, আমার এই চাষে গ্রিনহাউস খুবই প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি আর্থিক ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সহায়তা করে এবং একটি গ্রিনহাউসের ব্যবস্থা করে দেয়, তাহলে ভিনদেশি এই ফলের ফলন আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। এ জন্য প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করাসহ কৃষি বিভাগের পরামর্শ চেয়েছেন কৃষি তিনি।

এদিকে, কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, গত বছর রংপুর অঞ্চলে মোট ২ দশমিক ৫৫ হেক্টর জমিতে স্ট্রবেরির চাষ হয়েছিল।

কৃষি সম্প্রসারণ রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সিরাজুল ইসলাম বলেন, তরুণ উদ্যোক্তাদের যদি আমরা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও প্রকল্পের আওতায় কাজে লাগাতে পারি, তাহলে সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তাদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। দেশের বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় তরুণ কৃষি উদ্যোক্তাদের কারিগরি সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি বিপণন সুবিধার আওতায় আনার ক্ষেত্রে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

মালচিং পদ্ধতি কি?

আধুনিক মালচিং হলো উন্নত কৃষি প্রযুক্তি, যেখানে ফসলের মাটির উপরিভাগ বিশেষ প্লাস্টিক বা জৈব পর্দা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। এটি মূলত মাটি, আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে আগাছা দমন, পানির অপচয় রোধ এবং দ্রুত ফলন নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হয়। মূলত সবজি ও উন্নত চাষাবাদে এটি লাভজনক পদ্ধতি।

যেভাবে তৈরি করা যায়

জমিতে বেড তৈরি করে চারা রোপণের আগে মাটির ওপর কালার বা মেটাল প্রলেপযুক্ত প্লাস্টিক শিট (মালচিং ফিল্ম) বিছিয়ে দেওয়া হয়। দুই ধরণের মালচিং পদ্ধতিতে বেড় তৈরি করা যায়। জৈব মালচিং পদ্ধতিতে ব্যবহার হয় শুকনো পাতা, খড়, বা ঘাস এবং অজৈব/প্লাস্টিক মালচিংতে পলিথিন বা বিশেষ মালচ ফিল্ম ব্যবহার করা হয়।

মালচিং পদ্ধতির সুবিধা

এই পদ্ধতি পানি বাষ্পীভবন রোধ করে, েএতে সেচের প্রয়োজন কমে। আলো না পাওয়ায় আগাছা জন্মায় না। গ্রীষ্মে মাটি ঠান্ডা এবং শীতে উষ্ণ রাখে। মাটি ক্ষয় রোধ করে এবং পুষ্টিগুণ বজায় রাখে। এই পদ্ধতিতে আগাছা নিরানির খরচ বাঁচে এবং গাছের দ্রুত বৃদ্ধি ও অধিক ফলন নিশ্চিত হয়। প্লাস্টিক মালচিংয়ের ব্যবহার বর্তমানে উচ্চমূল্যের ফল ও সবজির চাষে বেশ জনপ্রিয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2015
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: রায়তাহোস্ট
error: Content is protected !!